‘পাথরসম্রাট’ টুলুর আবেদন খারিজ, নিম্ন আদালতের নির্দেশই বহাল হাইকোর্টের

Image: SNS

বীরভূমের ‘পলাতক’ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের স্বস্তি মিলল না কলকাতা হাইকোর্টেও। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন খারিজ করে দিল আদালত। নিম্ন আদালতের নির্দেশ মেনে টুলুকে হাজিরা দিতে হবে বলেই জানিয়ে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

গত ২৮ জুলাই গভীর রাতে মহম্মদবাজারের ডেউচা গ্রামে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় নগদ প্রায় ২৮.৫ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা। বিপুল পরিমাণ নগদ ও সোনা উদ্ধারের পরই তদন্তকারীদের নজরে আসেন টুলু মণ্ডল। তাঁর বিভিন্ন সম্পত্তি ও ঠিকানায় শুরু হয় তল্লাশি।

তবে তদন্তকারীদের দাবি, তল্লাশি শুরুর আগেই বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন টুলু। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের পাশাপাশি জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও। সিউড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দিলেও তিনি হাজির হননি।


কলকাতা হাইকোর্টে টুলুর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে। তাঁর প্রশ্ন ছিল, অভিযুক্তকে কোনও সুযোগ না দিয়েই এভাবে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যায় কি না। তাঁর দাবি, ৩০ জুলাই এফআইআর দায়েরের দিনই নিম্ন আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে ১০ আগস্টের নির্দেশে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার কথা বলা হয়।

অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে মুখবন্ধ খামে আদালতে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে, গত ২৩ মে-ই বিদেশে চলে গিয়েছিলেন টুলু। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর একাধিক জায়গায় খোঁজ চালিয়েও তাঁর সন্ধান মেলেনি বলে আদালতকে জানায় পুলিশ।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, তদন্তকারী সংস্থার কাছে টুলু বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন, এমন স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তাই নিম্ন আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। এরপর কোনও কড়া পদক্ষেপ করা হলে আইনের পথে জামিনের আবেদন করার সুযোগও থাকবে।

আরও পড়ুন: বাংলায় বিনিয়োগ করবে আম্বানিরা! অ্যান্টিলিয়ায় বৈঠক সেরে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

এই পর্যবেক্ষণের পরই টুলু মণ্ডলের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করা আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। তবে কি দেশে ফিরবে টুলু? নিম্ন আদালতের নির্দেশে হাজিরা দেবে? উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।