হাইকোর্টে ধাক্কা টুলুর, খারিজ মামলা, আদালতে গোপন রিপোর্ট জমা রাজ্যের

Image: SNS

কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা টুলু মণ্ডলের। গ্রেপ্তারির  উপরেও কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করল না আদালত। তবে টুলু মণ্ডল বিদেশে থাকায় এই মুহূর্তে তাঁকে গ্রেপ্তার করার আশঙ্কা নেই বলেই পর্যবেক্ষণে জানালেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। প্রয়োজনে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারবেন মামলাকারী। টুলু মণ্ডলের অন্য আবেদন, যার মধ্যে রক্ষাকবচের আবেদনও রয়েছে, আগামী ২৮ আগস্ট শুনবে আদালত।

মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে একটি গোপন রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়। সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনতে চায়নি রাজ্য। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। ফলে এই মুহূর্তে আদালত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিলেই ভাল।

রাজ্যের দাবি, টুলু মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা, সোনার বার-সহ বিভিন্ন সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছে। ২৮-২৯ জুলাই এবং ৩০ জুলাইয়ের তল্লাশি ঘিরেই মামলার সূত্রপাত। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির একাংশ বেনামি। ইতিমধ্যেই দুটি পৃথক মামলায় চার্জশিটও দাখিল হয়েছে। প্রথম চার্জশিট ৪ আগস্ট মহম্মদবাজারের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে দাখিল করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চার্জশিট দেওয়া হবে বলেও আদালতে জানায় রাজ্য।


অন্যদিকে, টুলু মণ্ডলের হয়ে সওয়াল করে বিশিষ্ট আইনজীবী দুষ্মন্ত দাভে প্রশ্ন তোলেন, কোনও অভিযোগ ছাড়াই ভোররাতে কীভাবে তাঁর মক্কেলের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালাল? তাঁর বক্তব্য, টুলু মণ্ডল দেশের বাইরে ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বাড়িতে জোর করে ঢুকে টাকা-সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দাভের দাবি, বেআইনি সম্পত্তির অভিযোগ থাকলে আইন মেনেই তদন্ত করা উচিত ছিল।

আদালত প্রশ্ন করে, বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনা কি অস্বীকার করছেন? জবাবে দাভে জানান, ওই টাকা বা সোনা তাঁর মক্কেলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়নি। শুনানিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা BNS-এর ১১১ ধারা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই ধারাটি সংগঠিত অপরাধ সংক্রান্ত। দাভের প্রশ্ন, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে এই ধারা প্রয়োগের ভিত্তি কী? তাঁর আরও দাবি, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে প্রতারণা বা আর্থিক দুর্নীতির কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।

রাজ্যের পাল্টা বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির বহর, সোনার বার এবং বিপুল নগদ অর্থের বিষয়টি নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আদালতও প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির পরিমাণ এবং প্রকৃতি দেখে মনে করেছে, ঘটনাটি বৃহত্তর অপরাধের অংশ হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অপরাধের ধরন বহুমুখী এবং এর সঙ্গে আর্থিক দুর্নীতির যোগ থাকার বিষয়টি এই পর্যায়ে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্তের এই প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের তদন্তে হস্তক্ষেপ করা হবে না। আইন মেনেই তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। দাভের আরও অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই পুলিশ তাঁর মক্কেলের বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছে। এমনকী সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পিছনেও বড় রহস্য রয়েছে। তাঁর দাবি, এই বাজেয়াপ্তর যথাযথ আইনি ভিত্তিও নেই।

আরও পড়ুন: অভিষেকের অ্যাকাউন্ট-কার্ড বন্ধ! হাইকোর্টের ধমকের পর বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসি করবে ব্যাঙ্ক

এদিনের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এখনই কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। টুলু মণ্ডল চাইলে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। তাঁর অন্য মামলায় রক্ষাকবচ-সহ বাকি আবেদনগুলির শুনানি হবে আগামী ২৮ আগস্ট।