দুই বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া চিঠি, স্পিকারকে দিলেন সাংসদ সৌগত

MP Sougata Roy Photo-ANI

কলকাতা বিমানবন্দরে একটি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন দমদমের বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়। শুনতে হয়েছিল চোর, চোর স্লোগান। দেখতে হয়েছিল কালো পতাকা। এমনকী সরকারি বৈঠকে যোগ দিতে গেলে একদিন আগেই শুনতে হয়েছিল গো-ব্যাক স্লোগান। আর তাঁর গাড়িতে পড়েছিল একের পর এক চড়-চাপড় বলে অভিযোগ। ওই গাড়িতে জুতো দিয়েও আঘাত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনা নিয়ে এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে কড়া চিঠি দিলেন সাংসদ সৌগত রায়। আর ওই চিঠিতে দুই বিজেপি বিধায়কের বিরদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বলেই খবর।

এয়ারপোর্ট অ্যাডভাইজারি কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বর্ষীয়ান সাংসদকে বলে অভিযোগ। সৌগত রায়ের অভিযোগ, ‘বিক্ষোভ যারা দেখাচ্ছিল তারা সকলেই বিজেপি কর্মী। এই পরিকল্পিত হাঙ্গামার নিন্দার ভাষা নেই। এই বৈঠকে দু’জন বিজেপির বিধায়কও ছিলেন। ওঁরা চান চেয়ারম্যান পদটি আমি ছেড়ে দিই। কিন্তু আমার ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। এই বৈঠকের মধ্যেও চাপ সৃষ্টি করা হয়, যাতে কোনও কথা বলতে না পারি। শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীকে বিষয়টি জানাব।’ এই পর্যন্ত সাংসদ বলেছিলেন। কিন্তু সেখানে এবার সরাসরি দুই বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে নালিশ ঠুকলেন তৃণমূল সাংসদ।

বিজেপির দুই বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি এবং সৌরভ শিকদারের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন সাংসদ। তৃণমূল সাংসদের দাবি, দুই বিধায়কের উপস্থিতিতেই এই বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। আর তাঁদের প্রত্যক্ষ সমর্থনও ছিল। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সৌগত রায়। এমনকী এই ঘটনাকে স্বাধিকার ভঙ্গের বিষয় হিসেবেও দেখছেন তিনি। এই বিক্ষোভের ঘটনায় বিজেপির দুই বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি এবং সৌরভ শিকদারের ভূমিকা রয়েছে বলে সাংসদের দাবি।


তাছাড়া এই ঘটনা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির দুই বিধায়কও। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি বলেন, ‘বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ‌্যান করেছে। দমদমের সার্বিক উন্নয়নে সৌগত রায়ের কোনও ভূমিকা নেই। এয়ারপোর্টের পদটি তাঁর ছেড়ে দেওয়াই উচিত।’ আর দমদম উত্তরের বিধায়ক সৌরভ সিকদার বলেছেন, ‘আমরা সকলেই ভেবেছিলাম, কেউ হয়তো ইস্তফা দেবেন। কেউ চুরি করে থাকলে, ‘চোর’ স্লোগান শুনবেনই। জনরোষ স্বাভাবিক, লোক তো আর পুজো করবে না।’ এইসব বক্তব্যও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন সাংসদ সৌগত রায়।