কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের জ্যোতিনগর কলোনি এখন খবরের কাগজের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। কারণ গত ২৯ জুলাই তারিখ থেকে আচমকাই পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিচ্ছিন্ন করা হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগও। বিদ্যুতের ব্যবস্থা এখন হলেও দু’মাস ধরে সেখানে পানীয় জলের ব্যবস্থা হয়নি। পানীয় জলের হদিশ এখনও করে উঠতে পারেননি জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা। দিনের পর দিন কলোনির কলের মুখ শুকনো। এখানে বন্দরের জমি-জট রয়েছে। এবার এই জল যন্ত্রণা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন মমতা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম।
এখানে শুধু খাবার জল নেই। কেন দু’মাস পানীয় জল নেই? খাস কলকাতার এই কলোনিতে এখন এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এই জ্যোতিনগর কলোনিতে পাঁচ হাজার বালিন্দার জলের লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। কোনও এক অজ্ঞাত কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। নাগরিকদের একাংশ বলছেন, এখানে তাঁরা অন্য সম্প্রদায়ের বলেই তাঁদের উপর এমন কষ্ট নামিয়ে আনা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ কতটা সত্য তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
I filed a Public Interest Litigation (PIL) in the Calcutta High Court. Do you know the reason? It’s not about inclusion of names in the voters’ list, but to secure the right of around 5,000 residents of a hamlet to have access to drinking water. Before election voting right of… pic.twitter.com/QEbhYYO8Lm
— Samirul Islam (@SamirulAITC) September 26, 2026
বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরি করে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। তাই ভোটের অধিকার ফিরে পেতে যেমন আন্দোলন চলছে তেমনই পানীয় জলের অধিকার ফিরে পেতে লড়াই শুরু হল! কলকাতার বুকে জ্যোতিনগর কলোনির প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দার জল সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সামিরুল ইসলাম। সামিরুলের দাবি, গত দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে জ্যোতিনগর কলোনির কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত কলগুলি কার্যত শুকনো। তাঁর অভিযোগ, কোনও প্রত্যন্ত এলাকা নয় এটা। খোদ কলকাতা শহরের মধ্যে একটি এলাকাতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারা একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের হওয়ার জেরেই তাঁদের জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেছেন সামিরুল। সমাজমাধ্যমে শনিবার সামিরুল লেখেন, ‘সংশ্লিষ্ট এলাকায় জল সরবরাহ বন্ধের পিছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণেই তাঁদের জল সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এটাই কী তবে উন্নয়ন? পানীয় জলের অধিকার ধর্মের ওপর নির্ভর করে? ধর্মের ভিত্তিতে পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবা পাওয়ার অধিকার কি নির্ধারিত হতে পারে? জ্যোতিনগর কোনও প্রত্যন্ত গ্রাম নয়, কলকাতা শহরের মধ্যেই অবস্থিত। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের পানীয় জলের সংকট তৈরি হয়েছে। আদালতের হস্তক্ষেপে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারা ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন।’