স্বাধীনতা দিবসে সারপ্রাইজ ভিজিট কুণাল ঘোষের। আর তা নিয়ে চর্চা চলল সারাদিন। ঘটনাস্থল তৃণমূল কংগ্রেসের মেট্রোপলিটন কার্যালয়। যে অফিস এখন ঋতব্রত শিবিরের দখলে। এই বিদ্রোহী শিবিরের মাথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁকে কুণাল ঘোষ ‘চাটন ঋত’ বলে থাকেন। শনিবার তাঁদের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে হঠাৎ হাজির হলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তখন বক্তৃতা করছিলেন। সেখানে এসে হাজির হয় কুণাল ঘোষের গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে সোজা ঢুকে যান পার্টি অফিসে। কুণালকে দেখে চমকে ওঠেন অরূপ-চন্দ্রিমারা। তবে কুণালের এই ‘সারপ্রাইজ ভিজেটে’ নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কারণ বিদ্রোহী শিবিরের স্বাধীনতার উদযাপনে মিশে গিয়ে শহিদ বেদিতে পুষ্প অর্পন করেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সতীর্থদের প্রস্তাবে অল্প বক্তৃতাও করেন। যদিও সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন না।
প্রথমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তপসিয়ায় পুরনো তৃণমূল ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক। তার পরেই চলে গেলেন মেট্রোপলিটনে বিদ্রোহী শিবিরের অনুষ্ঠানে। তপসিয়ায় কালীঘাট শিবিরের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে কুণালের সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ কালীঘাটের নেতা ও ছাত্র-যুবরা। কুণাল বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়া নিয়ে জানান, মেট্রোপলিটনের সামনে যে রাস্তা দিয়ে তিনি যাতায়াত করেন সেখান দিয়েই ফিরছিলেন। ফেরার সময় দেখেন, তাঁর দলের নাম করে পতাকা তোলা হচ্ছে এবং অনেকেই সেখানে আছেন। তাই তিনি গাড়ি থেকে নেমে পড়েছিলেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের মেট্রোপলিটনের এই কার্যালয় কুণাল ঘোষের বিধানসভা এলাকা বেলেঘাটার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং ওই এলাকার বিধায়ক হিসেবে তিনি সৌজন্যের নজির দেখিয়েছেন বলে কালীঘাট পক্ষের ব্যাখ্যা। কিন্তু বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার এক ধাপ এগিয়ে কুণালের নৌকা বদলের ইঙ্গিতই পেয়ে গিয়েছেন পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় বলে দাবি করেছেন। তাই কোহিনুর মজুমদার বলেন, ‘কুণাল ঘোষ আমাদের এখানে এসেছিলেন। কলিং বেল বাজিয়ে গিয়েছেন। কিছুদিন পরে লাগেজ নিয়ে চলে আসবেন।’ এই কথা শুনে পাল্টা কুণাল ঘোষের খোঁচা, ‘বালিশকে আমি ঘৃণা করি। তাঁর বিরুদ্ধে যে মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন, তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাই আমি এসবের তদন্ত চাই। এর পরেও কি মনে হয় আমি দু’নৌকায় পা দিয়ে চলছি?’
এদিন কুণাল ঘোষের বক্তব্যের বেশিরভাগেই ছিল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। সামনে দাঁড়িয়ে বিদ্রোহী নেতা-নেত্রীরাও সেটা মন দিয়ে শুনেছেন। নেতাজির অপমানে অনন্ত মহারাজের গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন কুণাল। আর বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এদিন কুণালের আগমন নিয়ে বলেন, ‘শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে যে কেউ আসতে পারে। পথচলতি যে কোনও মানুষই আসতে পারেন। উনি এই এলাকার বিধায়ক, শুনলাম বলেছেন এখান থেকে যাচ্ছিলেন পতাকা তোলা হচ্ছে দেখে নেমে পড়েছেন। এসেছেন সেটা ভালো। এটাই তো গণতন্ত্র।’ তবে কুণালের বক্তব্য, ‘মমতাদির নেতৃত্বে তৃণমূল তৈরি হয়েছে। সেই মমতাদিকে ওঁরা মুছে দিতে চায়। ওঁদের ডেরায় দাঁড়িয়ে আমি বাঘের বাচ্চার মতো মমতাদির নামটা বলে এসেছি। দু’নৌকায় পা দিয়ে কুণাল ঘোষ চলে না। একটা পা ব্যবহার করে দাঁড়িয়ে থাকতে, আর একটা লাথি মারতে।’