খালি পেটে পড়াশোনা থেকে কাজ কোনও কিছুই করা যায় না বলে অনেকের মত। এবার সেটা অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিল চোরের দল। চুরি করতে গড়িয়ার একটি বাড়িতে তারা ঢুকেছিল। কিন্তু খালি পেটে কি চুরি করা যায়? তাই খিদে পেয়ে গিয়েছিল চোরেদের। এই পরিস্থিতিতে গৃহস্থের ফ্রিজ খুলে তারা দেখে বেশ কয়েকটি কেক রয়েছে। সেগুলি তারা ওই বাড়িতে বসেই সাবড়ে দিল। তাতে চুরি করার পর পরিশ্রমও খানিকটা কমল এবং খিদেও মিটল। এই ঘটনা এখন সামনে আসতেই তুমুল আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
চুরি করা এবং কেক খাওয়া একসঙ্গে আগে খুব একটা দেখা যায়নি। কদিন আগে গড়িয়ার ফরতাবাদের একটি বাড়িতে চুরি করতে যায় চোরের দল। কিন্তু খিদে তো সহ্য করা যায় না। তাই সেখানে চুরি করার পর খিদের চোটে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তার আগে অবশ্য চোরের দল গয়না, টাকা সব হাতিয়ে নিয়েছিল। তার উপর ফ্রিজ খুলে খাবারও খেয়ে নিল! গোটা ঘটনাটি ওই বাড়িতে বসেই করল চোরেরা। সেটা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। চোরেদের এই কুকীর্তিতে মাথায় হাত গৃহস্থের। ওই চোরেদের দেহ আপাদমস্তক কালো পোশাকে ঢাকা ছিল। তাই এখনও তাদের শনাক্ত করা যায়নি। তদন্তে নেমেছে সোনারপুর থানার পুলিশ।
এই চুরির ঘটনা ঘটে দু’দিন আগের। গড়িয়ার ফরতাবাদ এলাকার এক গৃহবধূ কদিন আগে একটি সোনার নেকলেস কিনেছিলেন। সেটা পরে তিনি সমাজমাধ্যমে ছবিও পোস্ট করেন। নেকলেসের দাম যে ৫ লাখ টাকা সেটাও উল্লেখ করেছিলেন। আর ওই নেকলেসটি তখন নজরে পড়েছিল চোরেদের। তখনই ওই নেকসেল চুরির পরিকল্পনা করে ফেলে তারা। তারপর রাতে বাড়ির গ্রিল কেটে ভিতরে ঢোকে তিনজন চোর। তাদের পরনে ছিল কালো পোশাক এবং কালো মুখোশ। যাতে কেউ চিনতে না পারে। তবে এত দামি নেকলেস বাড়িতে রাখা নিরাপদ মনে করেননি গৃহকর্ত্রী। তাই তিনি সেটা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রেখে দেন। চুরি করতে এসে চোরেরা নেকলেস খুঁজে পায়নি। অনেকক্ষণ তল্লাশি করে দুটি সোনার পলাবাঁধানো এবং আলমারি থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা পেয়ে তা নিয়ে নেয়।
তাছাড়া এই ঘটনা যে ঘটেছে সেটা সকালে উঠে বুঝতে পারেননি গৃহকত্রী। কিন্তু জন্মদিনের জন্য রাখা কেক বের করতে গিয়ে চমকে ওঠেন তিনি। ফ্রিজে রাখা কেক কোথায় গেল! অবাক হয়ে যান তিনি। তখন কেক কে খেয়েছে জানতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন তিনি। তখনই চোখ কপালে উঠে যায়। ৫ লাখি নেকলেস চোরের দল পায়নি ঠিকই, কিন্তু ফ্রিজ খুলে জন্মদিনের একটি কেক চেটেপুটে খেয়ে গিয়েছে চোরের দল সেটা বুঝতে পারেন। এরপরই খবর দেওয়া হয় সোনারপুর থানায়। শুরু হয়েছে তদন্ত।