হামিমের কাজে খুশি ছিল ভাট্টি গ্যাং, দ্রুত মিলত বড় কাজ

Jaish Militant Arrested Photo-SNS

হামিম মণ্ডলকে হেফাজতে পেয়ে দফায় দফায় জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেল রাজ্য এসটিএফ। বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল জামাতুল মুজাহিদীন গোষ্ঠী। দুবাইতে ডেকে নিয়ে গিয়ে সেই অ্যাসাইনমেন্ট দেবার কথা ছিল হামিমকে।

তদন্তে উঠে এসেছে, পাক জঙ্গি সদস্য হামিম মণ্ডল গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর নির্দেশমতো সব কাজ করত। সেই মতো তৈরি করা হত ব্লু – প্রিন্ট। কিছুদিনের মধ্যেই হামিমের দুবাই যাবার পরিকল্পনা ছিল। বৈঠক হবার কথা ছিল ভাট্টি গোষ্ঠীর এক নেতার সঙ্গে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন ওই বৈঠকেই হামিমকে একটি বড় অ্যাসাইনমেন্ট দেবার কথা ছিল। তবে শুধু বৈঠক নয় কয়েকদিন আয়েশে থেকে তারপর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করত হামিম। তবে কি সেই নাশকতামূলক কাজ, এখন সেটাই জানতে তৎপর তদন্তকারীরা।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর আক্রমণের আগে তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখার কাজ করছিল হামিম। সেই সব তথ্য হামিম জঙ্গিদের পাঠাত। কোনো এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী গেলে সেখানকার হালহকিকত জানাতো হামিম তার ‘ বস ‘ দের। এমনকি সেই এলাকায় গিয়ে নিজে সরেজমিনে দেখেও আসত পরিস্থিতি – এমনটাই জেনেছে এস টি এফ। তবে দুবাই যাওয়ার পাসপোর্ট তৈরি ছিল না। পাসপোর্ট পাবার চেষ্টা করছিল হামিম।


হামিমের গ্রেপ্তারির পরেই জানা গিয়েছিল সে হাওড়ার পিলখানায় থাকত। কিন্তু কোন এলাকায় সে থাকত তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে রবিবার সকালে জানা যায় পিলখানার আলম মিস্ত্রি লেনের একটি বহুতলের একতলার একটি ফ্ল্যাটে হামিম থাকত। সেখানে হামিম ও তার বাবা থাকতেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

স্থানীয়রা জানতেন, সেখানে ব্যবসা চলে। সে যে জঙ্গি কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত তা স্থানীয়দের কাছে ছিল অজানা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সেখানে জামার ট্যাগ তৈরির কাজ চলত। ওইসব ছাপানোর আড়ালে অন্য কিছু চলত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই ঠিকানার আড়াল থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার ছক কষা হচ্ছিল কি না তদন্তকারীরা সেটাও খতিয়ে দেখছেন।

বৃহস্পতিবার এসটিএফ বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেপ্তার করে কুখ্যাত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে বসবাস করছিল এই সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর জঙ্গি হামিম মণ্ডল।

ধৃত হামিমের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি এবং সূচি। শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় ডিটেইলস মিলেছে ওই জইশ জঙ্গির কাছ থেকে। কোন জেলায় কবে মুখ্যমন্ত্রী যাবেন তার তথ্যও ছিল হামিমের কাছে। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার ছক কষা হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলওয়ামা হামলার ঘটনায় জড়িত সাজ্জাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ হামিম মণ্ডল। হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের পর তার জঙ্গি যোগের নানা তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে।

এদিকে হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সন্ত্রাসবাদী হিসাবে চিহ্নিত তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকেও গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। শুক্রবার রাতে ঝাড়খন্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়। বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অর্পিতা জঙ্গিদের হয়ে মিডিলম্যান হিসাবে কাজ করত। তরুণীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সদস্য হামিম মন্ডলের। ওই যুবকের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই গুপ্তচর সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে বলে এসটিএফ অফিসাররা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: হাওড়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে হামলার ছক! ISI যোগ-বিদেশি ফান্ডিংয়ের তদন্তে চাঞ্চল্যকর দাবি STF-এর

এদিকে হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সন্ত্রাসবাদী হিসাবে চিহ্নিত তার বান্ধবীকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। শুক্রবার রাতে ঝাড়খন্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়। বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অর্পিতা জঙ্গিদের হয়ে মিডিলম্যান হিসাবে কাজ করতেন। তরুণীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সদস্য হামিম মন্ডলের। ওই যুবকের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই গুপ্তচর সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে বলে এসটিএফ অফিসাররা মনে করছেন। তারপর ওই যুবকের বান্ধবী গ্রেপ্তার হবার পর তদন্তে নতুন মোড় নিল।