দফায় দফায় বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বর। আদালতের মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি অরুণকুমার ভগৎ এবং সরকারি আইনজীবীদের ঝামেলাকে কেন্দ্র করে এদিন উত্তেজনা ছড়ায়। এরপরে ইউটিউবার দীপক ব্যাপারিকে আদালতে হাজির করাতে গিয়ে ফের ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হল ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির কথা ঘোষণা করে বার অ্যাসোসিয়েশন।
এদিন আদালতের মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি অরুণকুমার ভগতের ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে সরকারি কৌঁসুলিদের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, এদিন সকালে অরুণ কয়েকজন সরকারি কৌঁসুলিকে অপমান করে ঘর থেকে বার করে দেন। তাঁদের পিপ প্যানেল থেকে বহিষ্কার করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মামলাও ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ মামলা বাছাই করা কয়েকজন সরকারি আইনজীবীকে দিচ্ছেন ভগৎ। প্রতিবাদে ভগতের ঘরের সামনে প্রতিবাদে বসেন সরকারি আইনজীবীরা। তাঁদের মধ্যে এক এক জন বলেন, ‘আমাদের অপমান করা হয়েছে। তাই আমরা এখানে বসে কাজ করছি।’ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অরুণ বলেন, ‘যোগ্যদের হাতে মামলা দেওয়া হয়। আর দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের প্যানেল থেকে বার করে দেওয়া হবে। কারণ বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।’
অন্যদিকে, এদিন ব্যাঙ্কশাল আদালতে ইউটিউবার দীপক ব্যাপারিকে দেখার পরেই বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। অভিযোগ, অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে তাঁরা ডিমও ছোঁড়েন। আদালত চত্বরে ডিম ছোঁড়ার ঘটনায় আপত্তি জানান আইনজীবীদের একাংশ। ব্যাঙ্কশাল আদালত সূত্রের খবর, বিক্ষোভকারীরা ইউটিউবারকে ডিম ছুঁড়তে গেলে তা আইনজীবীদের গায়ে লাগে। আইনজীবীরা গোটা ঘটনার প্রতিবাদ করেন। সেই প্রতিবাদ করতে গিয়েই বিজেপি সমর্থিত আইনজীবীরা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে মিশে গিয়ে বচসা শুরু করেন।
আইনজীবী ও বিজেপি সমর্থক এই দুটি দলে ভাগ হয়ে যায়। দুপক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। দ্রুত তা হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ব্যাঙ্কশাল আদালত সূত্রের খবর, ধাক্কাধাক্কি করার পর পুলিশ আইনজীবীদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পর আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আইনজীবীদের প্রতি এই আক্রমণের প্রতিবাদে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ থেকে বিরত থাকবেন। যতদিন না পর্যন্ত অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, ততদিন তারা কাজ থেকে বিরত থাকবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।