বিজয়া দশমীতে চিনি-দুধের দামে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের, মহার্ঘ মিষ্টি আকারেও ছোট

Sweets Price Hike Photo-ANI

বিজয়া হোক মিষ্টিমুখে। বাঙালি এই কথা শুনে আসছে বহু যুগ আগে থেকেই। দুর্গাপুজো শেষে এটাই চিরাচরিত বাঙালির রীতি। মিষ্টিমুখ করিয়ে শুভ বিজয়া জানানো। কিন্তু সেখানে এবার নাভিশ্বাস উঠতে শুরু করেছে। কারণ মিহিদানা, সীতাভোগ থেকে শুরু করে রসগোল্লা, গজা বা অন্য মিষ্টির দাম আচমকাই বেড়ে গিয়েছে। দামের ছ্যাঁকা খাচ্ছে আম গৃহস্থ। উৎসবের মরশুম শুরুর আগে দেশজুড়ে বেড়েছিল চিনির দাম। দাম বেড়েছিল দুধেরও। আর তারই প্রভাব পড়ে মিষ্টিতে। রসগোল্লা থেকে সন্দেশ সব মিষ্টিরই দাম বেড়ে গিয়েছে। তার উপর মিষ্টির সাইজও হয়েছে কিছুটা ছোট বলে অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে পড়ে এখন বিজয় দশমীর দিন মিষ্টি কিনতে গিয়ে ছ্যাঁকা খাচ্ছে মধ্যবিত্ত বাঙালি। পকেটে চাপও পড়ছে মনও ভরছে না। এত দাম কেন? মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডারগুলিতে গিয়ে দাম শুনে এমনই প্রশ্ন করছেন গৃহস্থরা। চিনি-দুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টির দাম বাড়াতে হয়েছে। এই উত্তরই পাচ্ছেন তাঁরা। তাতে মুখ ছোট হয়ে গেলেও কোনওরকমে রীতি বজায় রাখছেন তাঁরা। শহর থেকে গ্রামবাংলায় যেসব মিষ্টির নাম আছে অর্থাৎ ব্র্যান্ডেড সেসব মিষ্টির তো দাম বেড়েছেই। ছোটখাটো দোকানেও ১০-১২ টাকা পিসের মিষ্টি শোকেসে নেই। তার জেরে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের পক্ষে বিজয়ার মিষ্টি কিনতে পকেটে চাপ পড়েছে। আর ব্যবসায়ীরা জানান, ৪৮ টাকা কেজি চিনি খুচরো বাজারে ৬৫-৭০ টাকায় পৌঁছেছে। তাই মিষ্টির দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছে। এমনকী ময়দা থেকে অন্যান্য সব উপকরণের দাম বেড়েছে।

দাম যতই বাড়ক বিজয়ার দিনে মানুষ অতিথিকে মিষ্টিমুখ করিয়ে থাকে। প্রতিবেশীর বাড়িতে মিষ্টি দেওয়ার চল গ্রামবাংলায় এখনও আছে। সুতরাং দশমী থেকেই মিষ্টির দোকানগুলিতে পড়তে শুরু করেছে লম্বা লাইন। কিন্তু দাম শুনে অনেকেই ছ্যাঁকা খাচ্ছেন। বহু গৃহস্থ সংখ্যা কমিয়ে পকেট ম্যানেজ করছেন। কিন্তু মন তো ভরছে না।


এই বিজয়া দশমীর সময় কারিগরদের বাড়তি মজুরিও দেওয়া হয় বলেই জানাচ্ছেন দোকানদাররা। শহরের এক মিষ্টি ব্যবসায়ী জানান, একটি রসগোল্লার দাম ১-২ টাকা করে বাড়ানো আগেই হয়েছে। এবার তা আরও খানিকটা বেড়েছে। মিহিদানা এবং সীতাভোগের দাম প্রতি কেজিতে ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে ২৭০ টাকা আগেই হয়েছিল। দুর্গাপুজোর সময় সেটা ৩০০ টাকা হয়েছে। আর এক মিষ্টি ব্যবসায়ীর কথায়, দুর্গাপুজোর মরশুমে দুধের চাহিদা প্রচুর বেড়ে যায়। দাম বাড়লেও মিষ্টির দোকানদার যাঁরা তাঁদের বেশি পরিমাণ দুধ কিনতে হয়। এখন পর পর চড়ে যাচ্ছে দুধের দাম। তাই দাম বাড়ছে।