সরকারি টাকা লুটে ভুয়ো নথির ব্যবহার, হাসপাতাল-নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে তদন্তে স্বাস্থ্যভবন

Swasthya Bhavan Photo-ANI

ভুয়ো নথি তৈরি করে সরকারি টাকা লুটের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। আর এই অভিযোগ উঠেছে বেস কয়েকটি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। আর এমন অভিযোগ উঠতেই তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্যভবন। স্বাস্থ্য পরিষেবা রাজ্যের নাগরিকদের কাছে সুলভে পৌঁছে দিতে চালু হয়েছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’। কোনও শর্তের গেরোয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের থেকে কেউ বাদ পড়লে তাঁদের জন্য থাকছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’। এমনকী আগামী তিন মাস থাকবে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পও। সুতরাং তিনটি বিমা চালু থাকছে। আর এই তিন বিমার বিপুল টাকার তহবিল হাতাতে একশ্রেণির অসাধু নার্সিংহোম এবং ব্যবসায়ীরা হাত মিলিয়েছে বলে অভিযোগ! স্বাস্থ্যভবনে এমন অভিযোগ আসার পর অন্তর্তদন্ত করা হয়। আর তাতেই ধরা পড়েছে এই ‘অনিয়ম’।

কদিন আগে পূর্ব বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে হঠাৎ পরিদর্শনে যায় স্বাস্থ্যভবনের প্রতিনিধিদল। তখনই ভুয়ো বিল তৈরি করে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ অর্থ ‘লুট’ করার ঘটনা ধরা পড়ে বলে অভিযোগ। ওই বেসরকারি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তলব করা হয়। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনিয়ম সামনে চলে আসে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজ’ নামে একটি ভাগ আছে। কোনও রোগীকে ভর্তি করা হলে চিকিৎসার খরচের কোনও সীমা ধার্য করা নেই। রোগীর অস্ত্রোপচার করতে হলে সেটার প্যাকেজ আলাদা। কিন্তু এই নার্সিংহোমে খরচের সীমা নির্দিষ্ট করা রয়েছে। বর্ধমানের নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের রোগীকে ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজে’ ভর্তি করিয়ে ভুয়ো বিল তৈরি করে সরকারি টাকা লুট করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারের খরচ যেখানে ৩০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা সেখানে ‘মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজ’ দিয়ে ব্রেন স্ট্রোকের চিকিৎসার খরচ দেখানো হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। এমন ১৪টি ঘটনা সামনে এসেছে। এমনকী স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে যে রোগের চিকিৎসা পরিষেবা নেই সেই রোগীকে ভর্তি করিয়ে প্রকল্পে আছে আশ্বাস দিয়ে ঘুরপথে টাকা লুট করা হয়েছে। মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার করেন নিউরো সার্জনরা। কিন্তু হাসপাতালের নথি বলছে, মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার করেছেন অর্থোপেডিক সার্জন! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই কঠিন বাস্তব বলে জানতে পেরেছেন স্বাস্থ্যভবনের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তবে বেসরকারি নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, পূর্ব বর্ধমানের ঘটনা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। রাজ্যের প্রায় প্রত্যেক জেলায় একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোম, হাসপাতাল এই পথে দেদার সরকারি টাকা লুট করে নিচ্ছে।


তাছাড়া এভাবে যদি সরকারি টাকা লুট করে নেওয়া হয় তাহলে ভয়ানক বিপদ বাড়বে। রোগীরা পরবর্তী ক্ষেত্রে পরিষেবা পাবেন না। এটা একরকম স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতি। তাই এইসব দুর্নীতিপরায়ণ হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলির বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্যভবন। এই বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম সংগঠনের সম্পাদক রাজীব পান্ডে বলেন, ‘এই ধরনের দুর্নীতির পক্ষে আমরা নই। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে যাতে পৌঁছয় সেটাই আমরা চাই। দুর্নীতিতে লিপ্ত এমন নার্সিংহোম, হাসপাতালকে আমরা সংগঠনের সদস্য করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’