নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আদালতে বিস্ফোরক দাবি করল ইডি। তদন্তকারী সংস্থার হয়ে সওয়াল করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজুর দাবি, সুজিতের নির্দেশেই বিপুল সংখ্যক প্রার্থীকে বেআইনিভাবে পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ৩৪০ জন প্রার্থীর সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৮৬ জন ছিলেন আনডিজার্ভড ক্যাটেগরির। প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হত বলেও আদালতে দাবি ইডির।
ইডির আরও দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ২৮৪টি বেআইনি নিয়োগের হদিশ মিলেছে। অয়ন শীলের বক্তব্য থেকেও সুজিতের ভূমিকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। ইডির বক্তব্য, প্রার্থীদের রেফার করতেন সুজিত। অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশও পুরসভায় পাঠাতেন তিনি। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ১৫২ জনের সুপারিশ করেছিলেন সুজিত, এমনই দাবি ইডির।
শুনানিতে বিচারপতির প্রশ্ন, যাঁদের ওএমআর বিকৃত করা হয়েছিল, সেই প্রার্থীদের বয়ান নেওয়া হয়েছে কি না। জবাবে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু জানান, প্রার্থীদের তালিকা নিতাই দত্তের বাড়ি এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
ইডির দাবি, সুজিতের নামে প্রায় ৮.৮ কোটি টাকার সম্পত্তি বা অর্থের হদিশ মিলেছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। মোহিনী বসুর অ্যাকাউন্টে ৫২ লক্ষ ১০ হাজার টাকার লেনদেনের কথাও আদালতে তুলে ধরে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০০৩ সালেই সুজিতের হাতে ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকার বেশি ছিল। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সেই অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। এমনকী করোনা পর্বে রেস্তরাঁ বন্ধ থাকার পরেও সেখানে টাকা এসেছে বলে দাবি ইডির।
সুজিতকে জেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতি জানতে চান, জেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ কেন প্রয়োজন। জবাবে এসভি রাজু জানান, তদন্ত এখনও চলছে। দুর্নীতির সঙ্গে আরও অপরাধ বা আরও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ‘এটি সেই ধরনের স্ক্যাম, যেখানে মন্ত্রী নিজেই জড়িত।’
আরও পড়ুন: হাইকোর্টে রক্ষাকবচ মামলায় মিলল না স্বস্তি, গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় সুমিত
ইডির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এদিন সুজিত বসুর আইনজীবীকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে আদালত। আগামী ১৭ আগস্ট দুপুর ৩ টেয় মামলার পরবর্তী শুনানি।