স্টিফেন কোর্টের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও বিচার শুরুই হয়নি, কেটে গেল ১৫ বছর

Stephen Court Fire 2010 Photo-SNS

তখন রাজ্য বামফ্রন্ট সরকার। স্টিফেন কোর্ট অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা দেখেছিল পশ্চিমবঙ্গ। অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন। তারপর পরিবর্তন হয় রাজ্যে। তৃণমূল সরকার আসে। কেটে যায় ১৫ বছর। এবার পালাবদল হয়ে রাজ্যে আসীন বিজেপি সরকার। কেটে গিয়েছে তাদেরও চার মাস। কিন্তু সেই অভিশপ্ত স্টিফেন কোর্ট মামলার শুনানি আজও হল না। তাহলে কবে বিচার পাবেন ক্ষতিগ্রস্তরা? যাঁরা তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের হারিয়েছেন এখনও তাঁরা দিন গুনছেন স্টিফেন কোর্ট মামলার শুনানির। এই বিষয়টি নিয়ে নির্ধারিত কোনও তারিখ এখনও জানা যায়নি।

এই স্টিফেন কোর্ট অগ্নিকাণ্ডে দেখা গিয়েছিল, প্রাণ বাঁচাতে মানুষজন উপর থেকে নীচে সরাসরি ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কেউ বেঁচেছেন, কেউ মারা গিয়েছেন। আর যাঁরা বের হতে পারেননি তাঁরা অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই বিভীষিকাময় দিন এখনও ভোলেননি মহানগরীর নাগরিকরা। তার মধ্যেই কলকাতার স্টিফেন কোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর পার হয়ে গিয়েছে ১৫ বছর। ওই ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে মারা গিয়েছিলেন ৪৩ জন মানুষ। আহত হয়েছিলেন প্রায় ৪০ জন। অথচ এত বছর কেটে গেলেও আজও মূল মামলার বিচার শুরুই হয়নি। এই বিপুল সময়ে বদলি হয়ে গিয়েছেন একাধিক বিচারক। বদল হয়ে গিয়েছে সরকারি কৌঁসুলিও। এক অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছে।

এতকিছু ঘটে যাওয়ার পরও কল্লোলিনী কলকাতা ভুলতে পারেনি সেই ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডের কথা। তাই তো অনেকেরই প্রশ্ন, আইনি গেরো কাটিয়ে কবে শুরু হবে স্টিফেন কোর্ট মামলার শুনানি? এই মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি গণেশ মাইতি এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘সরকারপক্ষ চায় এই মামলায় দ্রুত চার্জ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে। কিন্তু অভিযুক্তরা এই মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। এখন তার শুনানি চলছে। ওই আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্টিফেন কোর্ট মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।’ সুতরাং এই মামলা এখন বিশ বাঁও জলে বলে মনে করা হচ্ছে।


তাছাড়া আদালত সূত্রে খবর, ২০১০ সালে স্টিফেন কোর্ট অগ্নিকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিল ৬ জন। এখন পাঁচজন বেঁচে আছেন। তাঁরা সকলেই জামিনে আছেন। পাঁচজনই স্টিফেন কোর্ট মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযুক্তদের কৌঁসুলি অমিত ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘আমার মক্কেলদের বিরুদ্ধে গুরুতর কোনও অভিযোগ নেই। তাই তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হোক। আমাদের বক্তব্য শেষ হলেই এই নিয়ে আদালত রায় দেবে।’ আর সরকারপক্ষ আদালতে বারবার দাবি করেছে, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। সরকারি কৌঁসুলি জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা শতাধিকের উপর। এখন মামলাটি চলছে কলকাতার বিচারভবনের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে। তবো সমস্ত আইনি গেরো কাটিয়ে কবে বিচার শুরু হবে সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।