বিচারাধীন মামলার বিচারকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন মামলাকারীরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। আর সেই তদন্তের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি মামলার সমস্ত বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের।
কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে সুব্রত মণ্ডল ও অন্যদের দায়ের করা মামলার শুনানি হয়। বনগাঁর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট-২-এ বিচারাধীন একটি মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তরের আর্জি জানিয়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita)-র ৪৪৭ ধারায় এই আবেদন করা হয়েছিল।
শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী আদালতে একটি অতিরিক্ত হলফনামা জমা দেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে পেশ করা ওই হলফনামা থেকে জানা যায়, বিচারাধীন মামলার বিচারকের বিরুদ্ধে মামলাকারীদের তরফে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা স্থানান্তরের আবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই তদন্ত বর্তমানে চলছে।
অতিরিক্ত হলফনামার সঙ্গে থাকা নথি খতিয়ে দেখে আদালত আরও জানতে পারে, বনগাঁর দ্বিতীয় আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক মামলাকারীদের একটি নির্দিষ্ট দিনে হাজির হওয়ার নোটিশ দিয়েছেন। বনগাঁর ফাস্ট ট্র্যাক আদালত-২-এ বিচারাধীন একটি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে ওই হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ট্রায়াল কোর্টের পক্ষে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সমীচীন হবে না বলে মনে করেছে হাইকোর্ট। এরপরেই বনগাঁর ফাস্ট ট্র্যাক আদালত-২-এ বিচারাধীন বাগদা থানার মামলার সমস্ত পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর দায়ের হওয়া ওই মামলায় আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
মামলাটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের সম্মিলিত তালিকায় সংশ্লিষ্ট নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি এবং তার ফলাফল আদালতকে জানাতে হবে দু’পক্ষকেই। বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিত রাখার এই নির্দেশ মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।