রাজ্যজুড়ে রাখিবন্ধনের উৎসবের মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবাদের বিশেষ প্রয়োজন আছে বলে জোরালো সওয়াল করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কদিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখানকার বাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে এবিভিপি’র তুমুল সংঘর্ষ ঘটে। তার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সেই রেশ এসে পড়ে রাজ্য-রাজনীতিতে। তখনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিদ্ধান্ত নেন ২৮ তারিখ রাজ্যজুড়ে পালিত হবে রাখীবন্ধন উৎসব। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও হবে রাখীবন্ধন উৎসব। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করবেন বলে অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেটার প্রয়োজন আছে বলে জোরদার বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
শুক্রবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম গাওয়া এবং রাখিবন্ধন নিয়ে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখিবন্ধন উৎসবের দিন বন্দেমাতরম গাওয়া হচ্ছে দশ হাজার কণ্ঠে। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘রাখি আমাদের ঐতিহ্য। সামাজিক বন্ধনের সূত্র। পশ্চিমবঙ্গে সেই রাখিকে ভাই বোনের সম্পর্কের বাইরে এনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বন্দেমাতরম গান লিখে সামাজিক উৎসব করে বঙ্গভঙ্গ রোধ করেছিলেন। রাখি হচ্ছে বন্ধনের সব থেকে ভাল মাধ্যম। আর তার সঙ্গে বন্দেমাতরম। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু লোক বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে। তাই সেখানে রাষ্ট্রবাদের বিশেষ প্রয়োজন আছে।’
শিক্ষাঙ্গনে এমন ঘটনা ঘটুক তা কেউ চায় না। কিন্তু বাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে এবিভিপির যে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটেছিল তাতে সবস্তরের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া মিলেছিল। যার জন্যই সেখানে রাখীবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিশেষ পোস্টার পড়েছে বন্দেমাতরম নিয়ে। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘সমাজকে এক করার জন্য রাখি হচ্ছে সবচেয়ে জোরালো মাধ্যম। জোরদার রাখিবন্ধন উৎসব হোক। জোরদার বন্দে মাতরম গান হোক।’
তাছাড়া এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর থেকে শুরু করে আলিপুর এবং যাদবপুরে গিয়ে রাখিবন্ধনের উৎসব পালন করেন। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পথশিশুদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। তার মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বিশেষ পোস্টার পড়েছে। যা নিয়ে দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘বন্দেমাতরম গাইতে শুরু করেছে যারা কোনদিন বন্দেমাতরম গায়নি। তাতে দিমাগী নকশালদের কষ্ট হচ্ছে। এটাই তো পরিবর্তন! আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গ হচ্ছে রাষ্ট্রবাদের উত্থান। জাতীয়তাবাদের উত্থান এখান থেকে হয়েছে। আর সেখানেই বিদেশি ভাবধারায় জাতীয়তাবাদকে ক্ষুন্ন করবে সেটা তো হতে পারে না। যাদবপুর এবং পশ্চিমবঙ্গ আবার ভারতবর্ষকে নেতৃত্ব দেবে রাষ্ট্রবাদের মাধ্যমে।’