চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন মারা গিয়েছেন। সেই সংখ্যা আর বাড়েনি। এই দুর্ঘটনার পর থেকে এমনিতেই রাজ্যের মানুষের মন ভারাক্রান্ত। সেখানে এক যুবক সমাজমাধ্যমে ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে বিষয়টিকে আরও উসকে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। পুরনো ভিডিওকে চোরবাগানের বলে চালানো হয় বলে অভিযোগ। তাই কোচবিহার থেকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত যুবকের নাম আইনুল হক। এই ঘটনা নিয়ে এখন তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। তারই মধ্যে আইনুলকে ‘বাংলাদেশ-নেপালের এজেন্ট’ বলে তোপ দাগলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
আইনুলের বাংলাদেশ যোগ নিয়ে সন্দেহজনক তথ্য এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে এটা ঠিক। কিন্তু সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার আগেই রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রীর এমন তোপ বিতর্ক তৈরি করেছে। আইনুলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ আদৌ আছে কিনা, থাকলে কেমন স্তরে রয়েছে সেসবের সত্যতা যাচাই করছে এসটিএফ। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চোরবাগানের দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে ভুয়ো তথ্য এবং পুরনো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে কোচবিহার থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ সেখানে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের হুঁশিয়ারি, ‘উপদ্রবের চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকারের নজর আছে সবদিকে। কাউকে ছাড়া হবে না।’
ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৩(২) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের পরিবেশে কলকাতার বুকে নেমে আসে ঘন বিষাদ। বৃষ্টি আর ভিড়ের চাপে চোরবাগান সার্বজনীনের পুজোমণ্ডপের গেট ভেঙে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। দুর্গাপুজোর কলকাতায় এত বড় বিপর্যয়ের নজির অতীতে নেই। উৎসবের রেশে তাল কেটে যায়। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে কারণ খুঁজতে গিয়ে নিরাপত্তার ফাঁকফোকর বেরিয়ে আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে দ্রুত তদন্ত শুরু হয়।
তাছাড়া আইনুলের সঙ্গে বাংলাদেশের অপরাধ জগতের যোগ আছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা। কোন উদ্দেশে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছিল? তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ। এই আবহে নবমীর সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘দিকে দিকে এসব লোকজন উপদ্রব করছে। শান্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে। এরা কেউ বাংলাদেশ, কেউ নেপালের এজেন্ট। ভারতকে নিয়ে অশান্তির ছক কষছে। পশ্চিমবাংলায় এতদিন এদের মাধ্যমে টাকাপয়সা ঢুকেছে। এখনও ঢুকছে। তবে সরকারের সবদিকে নজর আছে। কাউকে ছাড়া হবে না। অন্যায় করলে শাস্তি পাবে।’ আর কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) বলেছেন, ‘পুরনো একটি ঘটনার ভিডিও, যেখানে ধৃত যুবককে চোখ তুলে নেওয়ার কথা বলতে দেখা গিয়েছিল, সেটিই চোরবাগানের ঘটনা বলে প্রচার করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত এসটিএফ করছে। গুজব ছড়ানোর পিছনে বাংলাদেশ যোগ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’