তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই হুঁশিয়ারিতে বিজেপি যে একদম বিচলিত নয় সেটা শনিবার প্রাতঃভ্রমণে এসে স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার ইউএন-এ যেতে পরামর্শ দিলেন তিনি। নিশানা করলেন সারাজীবন আদালতে কেটে যাবে। কিন্তু আর কোনওদিন ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না। যদিও গতকালের সভা থেকে তৃণমূল আবার ক্ষমতায় আসবে বলে দাবি করেছেন তৃণমূলনেত্রী। যদিও দিলীপ ঘোষ তা নস্যাৎ করে দিয়েছেন।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভা থেকে একের পর এক চাঁচাছোলা ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর শনিবার সেসব বক্তব্যের পাল্টা কড়া জবাব দিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন দিলীপ ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিজেপি এবং পুলিশ-প্রশাসন যে অনৈতিক এবং অসাংবিধানিক কাজ করছে তার জেলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন। দেশের আদালতে কাজ না হলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবেন। সেখানে এদিন সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম এই কোর্টে আপনার বিশ্বাস নেই। আপনি ইউএন-এ যান, আন্তর্জাতিক কোর্টে যান। ওটাই বাকি আছে। বাকি জীবনটা শুধু কোর্ট আর কোর্ট।’
কোনও আদালতের রায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মান করেন না। মানেন না আদালতের রায় বলেও আক্রমণ করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। এসব করে যে কোনও লাভ হবে না সেটাও বাতলে দিয়েছেন তিনি। কিছু নেতা-নেত্রীকে ভুল বুঝিয়ে দলে রাখা হচ্ছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়সে পৌঁছে গেলেও আর ক্ষমতায় ফেরা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী। দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘কোনওদিন উনি কোর্টকে মানেননি, কোর্টের রায়কে মানেননি। কোর্টের রায় ওনার পক্ষে থাকলে ঠিক আছে। পক্ষে না এলে কোর্টের রায়কে উনি মানবেন না। এখন আন্তর্জাতিক কোর্ট দেখাচ্ছেন।’
তাছাড়া দুর্নীতি থেকে শুরু করে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বিলবোর্ড খোলা নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছিল সবটা নিয়েই এদিন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী তুলোধনা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমোকে। দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘যারা আছে তাদেরকে ভুলিয়ে ভালিয়ে রাখছেন যে তোমরা আমার সঙ্গে থাকো। আমি বলছি, দিদির সঙ্গে থাকেন, দিদির মতa বয়স হয়ে গেলেও ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। আমরা চেয়েছিলাম সমস্ত কলেজে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি হোক। তাহলে টাকা-পয়সা নয়ছয় হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করতে দেননি। ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্নীতি করেছেন। সাবজেক্ট অনুযায়ী রেট ছিল। ৩০ হাজার, ৪০ হাজার, ৫০ হাজার টাকা দিলে কলেজে অ্যাডমিশন হতো। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। এখন তার ফল ভুগতে হচ্ছে, রাস্তায় বসতে হচ্ছে। আর পুলিশ দৃশ্য দূষণ দূর করছে। এই ধরনের বোর্ড লাগিয়ে রাখার কোনও মানেই নেই। পার্টিই নেই, তার আবার সর্বভারতীয়। বেশি প্রভাব করার চেষ্টা করলেই পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুলিশের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। গুন্ডা দিয়ে মারপিট করেছে। এখনও অভ্যাস পাল্টায়নি। পুলিশের যা ঠিক মনে হয়েছে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।’