‘বিদেশি ফান্ডিংয়ের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেই ওরা ভয় পাচ্ছেন’, ককরোচদের কড়া আক্রমণ দিলীপের

Panchayat Minister Dilip Ghosh Photo-SNS

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে পথে নেমে সফল হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে পথে নেমেছেন তাঁরা। রাজধানী দিল্লির বুকে আছড়ে পড়েছে তাঁদের লাগাতার আন্দোলন। তাই নেমে এসেছে আটক, গ্রেপ্তার, মারধরের মতো নানা ঘটনা। তারপরও তাঁরা মাটি আঁকড়ে পড়ে আছেন। কারণ তাঁদের অভিযোগ, এখন গোটা দেশ জেনে গিয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বেই ভোট চুরি হয়েছে। গণতন্ত্র রক্ষা করার মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এখন কলঙ্কিত। তাই সরতে হবে জ্ঞানেশ কুমারকে। এবার এই ককরোচদের পিছনে বিদেশি ফান্ডিং রয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

এদিকে ককরোচদের পক্ষ থেকে আন্দোলন নিয়ে বড় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অভিজিৎ দিপকের হুঁশিয়ারি, ‘আমাদের থামানো যাবে না। স্বেচ্ছাচারীদের শেষের শুরু। আমরা পুলিশের কাছে কোনও মুচলেকা দিইনি। আবার রাস্তায় নামব।’ তাঁর সুরেই আশুতোষ রাঙ্কার তোপ, ‘জ্ঞানেশ কুমার গদ্দার। তাই তাঁকে ইস্তফা দেওয়ানোর জন্য যদি জীবনভর জেলে থাকতে হয় তাতেও রাজি।’ সৌরভ দাস সুর চড়িয়ে  বলেছেন, ‘দিল্লিকে যেভাবে দুর্গে পরিণত করে কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট-প্রাণভোমরা জ্ঞানেশ কুমার। তাই যত চেষ্টাই করো, রোখা যাবে না।’ এইসব বক্তব্য যখন দিল্লি থেকে ধেয়ে আসছে তখন দিলীপ ঘোষের পাল্টা আক্রমণ, ‘বিদেশি ফান্ডিংয়ের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেই ওরা ভয় পাচ্ছেন।’

অন্যদিকে ভারতবর্ষের জেন জি বিক্ষোভের পাশে দাঁড়িয়েছে নানা দেশ। তালিকায় প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশও রয়েছে। কদিন আগে এই ককরোচ আন্দোলনকে সমর্থন করে একাধিক পোস্ট করা হয়েছে পদ্মাপার থেকে। নাম উঠে এসেছে নাহিদ ইসলামের। দু’বছর আগে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে ছিলেন তিনি। তাঁর মুখে হাজারও ভারত-বিরোধী মন্তব্য শোনা যায়। এমনকী শিলিগুড়ি সীমান্তে ‘চিকেনস নেক’ নাকি বাংলাদেশ কেড়ে নেবে বলেও হুমকি শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে। পরে বাংলাদেশ নির্বাচনে লড়ে অন্যতম বিরোধী নেতা হন। এবার তিনি ‘ককরোচ’দের জোরাল সমর্থন করেছেন। তা থেকেই অভিযোগ উঠছে যে, ককরোচদের আন্দোলনে মদত দিচ্ছে তারেকের দেশ। সোমবার এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে যার পিছনে বিদেশি শক্তি রয়েছে। একথা তো বারবার বলা হচ্ছে। বিদেশ থেকে মদত দেওয়া হচ্ছে। তবে ফান্ডিংয়ের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই ওরা আরও ভয় পেয়েছে।’


তাছাড়া সম্প্রতি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালাতে গিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্নার ঠিক আগেই গ্রেপ্তার করা হয় অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস-সহ বহু সিজেপি নেতাকে। বাড়িতে গ্রেপ্তার করা হয় ইনফ্লুয়েন্সর ধ্রুব রাঠিকে। এবার তাঁরা আবার শুরু করতে চান আন্দোলন। আর তার আগেই বিদেশি শক্তির কথা তুলে আলোড়ন ফেলে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী।