‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়ে অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস’, বিস্ফোরক দাবি দিলীপের

Panchayat Minister Dilip Ghosh Photo-SNS

তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় ২ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন। এখন রাজ্যে বিজেপি সরকার এসেছে। সেখানে মহিলারা আগে দেড় হাজারের তুলনায় তিন হাজার টাকা মাসে পাচ্ছেন। কিন্তু সেই ভাতা সকল মহিলা পাচ্ছেন না বলেই অভিযোগ। আর তা নিয়ে রীতিমতো উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গে মহিলারা তিনদিন ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। রাস্তা অবরোধ, রেল অবরোধ থেকে শুরু করে বিডিও অফিসে তালা দেওয়া পর্যন্ত হয়েছে। আসলে যোগ্য মহিলারাই তা পাবেন এবং পাচ্ছেন বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানাকেই দায়ী করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

শনিবার প্রাতঃভ্রমণে এসে মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দিচ্ছে। কিন্তু সব প্রকল্প তো সবাই পেতে পারে না। কারণ এক্ষেত্রে কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসই সকলের অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে। এই ক্ষোভ-বিক্ষোভ তারই ফসল। আগের সরকারের জমানায় মুড়ি-মুড়কির মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হয়েছে। তাতে অভ্যাস খারাপ হয়ে গিয়েছে। এখন যাঁরা উপযুক্ত শুধু তাঁরাই টাকা পাবেন। অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে রাজ্যের নানা প্রান্তে যে বিক্ষোভ দানা বাঁধছে তা নিয়ে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

এখন অবশ্য রাজ্যে দু’ধরণের ছবিই দেখা দিয়েছে। একদিকে বসিরহাটের হাড়োয়াতে বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ চলেছে, বিরাটি রেলওয়ে স্টেশন অবরোধ হয়েছে। অপরদিকে আনন্দের সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের খট্টিমারি এলাকা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকার আনন্দে সেখানে রীতিমতো ব্যান্ড বাজিয়ে আবির খেলায় মেতে উঠলেন স্থানীয় মহিলারা। সুতরাং যোগ্যরা টাকা পাচ্ছেন সেই ছবিও ধরা পড়েছে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘অভ্যাস হয়ে গিয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে। এটাও জানা উচিত, সব সুবিধা সবার জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্প করেছে। রাজ্য সরকারও করেছে। তার একটা সীমা আছে। তার জন্য ক্রাইটেরিয়া ঠিক করা আছে। তার মধ্যে যাঁরা পড়বেন, তাঁরা পাবেন। দানধ্যান সবাইকে দেওয়া হবে, এই অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এটা সবাইকে বুঝতে হবে। এটা চলতে পারে না।’


কিন্তু রাজ্যের যে বিপুল সংখ্যক মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি তাঁরাও পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, বছরে ১২ লক্ষ টাকা আয় নেই পরিবারে। কেউ সরকারি চাকরি করে না। এমনকী মহিলারা ১০ হাজার টাকা রোজগার করেন না। এই ক্রাইটেরিয়া মিলে গেলেও তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন না। ক্ষমতায় আসার আগে বলা হয়েছিল, রাজ্যের সব মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। সেটা এখন হচ্ছে না। একদিন আগেই পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মহিলাদের সামনে বলেছেন, ‘আপনারা এসডিও অফিসে লিখিত জমা দিন। আপলোড করতেও একটু সময় লাগে। সেই সময়টা দিতে হবে। আমার বলতে খারাপ লাগছে, ভিতরে অনেক তৃণমূলের লোক বসে আছে। যাঁরা অনেক গোলমাল পাকাচ্ছেন। তাঁরা দেখে দেখে যাঁরা যোগ্য তাঁদেরকে না দিয়ে অযোগ্যদের দেওয়া হচ্ছে। তাই যোগ্যরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। বিষয়টা সবই রাজনীতির অংশ। ধীরে সুস্থে সব ঠিক হয়ে যাবে।’