কলকাতা পুরসভার নির্বাচন নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর মাসে হবে বলে জানা গিয়েছে। আর হাওড়া পুরসভার নির্বাচনও আছে। ইতিমধ্যেই পুরসভা নির্বাচন নিয়ে দায়িত্ব বন্টন করে দিয়েছে পদ্মপার্টি। এমনকী এই পুরসভা নির্বাচন নিয়ে রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠকও করা হয়েছে। ওই বৈঠকে বিজেপির কেন্দ্রীয নেতৃত্ব এবং রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। সুনীল বনসল, সুকান্ত মজুমদার, অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ তাবড় নেতারা ওই বৈঠকে পুরসভা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন। আর বুধবার প্রাতঃভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি পুরবোর্ড তৈরি করবে বলে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বার্তা দিলেন।
কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বিজেপি। এই কমিটির শীর্ষে আছেন তাপস রায়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সজল ঘোষ, রীতেশ তিওয়ারি, স্বপন দাশগুপ্ত-সহ বিজেপির একাধিক নেতা। কলকাতার পুরসভার এলাকার সঙ্গে যাঁদের দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে তাঁদেরকেই এই কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। বিজেপি এখন চায় কলকাতা পুরসভা এবং হাওড়া পুরসভা তাদের দখলে আসুক। তাই সেসব নিয়ে এখন কৌশল সাজানোর কাজ চলছে বলে সূত্রের খবর। এই আবহে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘হাওড়ায় গত ১৩ বছর ধরে নির্বাচন হয়নি এবং দুর্গাপুরে আট বছর ধরে পুরসভার নির্বাচন হয়নি। এই নির্বাচন অবশ্যই হওয়া উচিত। সেটা না হলে মানুষ পরিষেবা পাবে না এবং উন্নয়নও হবে না।’
পুরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিটি গড়ে তুলেছে বিজেপি। এই কমিটি ঠিক করবে সংকল্পপত্রে কী থাকবে এবং প্রচারের রণকৌশল কেমন হবে। কলকাতা পুরসভা এবং হাওড়া পুরসভায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে কোন কোন কাজ করবে এবং কেমন পরিষেবা মানুষের দরজায় পৌঁছে দেবে তা নিয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে যে উন্নয়ন আগে হয়নি সেটা এবার হবে বিজেপি বোর্ড গঠন করলে এমনটা বলা হচ্ছে। কলকাতা পুরসভা এখন ওয়ার্ডভিত্তিক ডিলিমিটেশনের কাজ শুরু করেছে। এই কাজ কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তারপরই পুরসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া সব ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর মাসেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হতে পারে। আগামী ৭ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে নতুন কলকাতা পুরসভা বোর্ড গঠন করতে হবে। তাই তার আগেই নির্বাচন শেষ করার প্রয়োজন আছে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির বিশেষ কমিটি গঠন এবং বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠককে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই নির্বাচন নিয়ে দিলীপ ঘোষের স্পষ্ট বার্তা, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি এই রাজ্যে যেভাবে লড়াই করে নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছে, আগামী পুরসভা নির্বাচনেও সেভাবেই লড়াই করে নিজেদের বোর্ড তৈরি করবে।’