মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীকে টার্গেট করা হয়েছিল। তাঁদের উপর হামলা নামিয়ে আনার ছক কষা হয়েছিল। কিন্তু তা পুলিশ ও এসটিএফের যৌথ উদ্যোগে ভেস্তে যায়। আর ধরা পড়ে যায় জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি হামিম মণ্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার। এই নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় হয়ে যায়। এবার গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। প্রায় তিন মাস হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের। তার মধ্যেই জঙ্গি টার্গেট বেশ ভাবিয়ে তুলেছে সকলকে।
এই হামিম-অর্পিতার সঙ্গে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের যোগ ছিল বলে এসটিএফ জানতে পেরেছে। এখন তাদের দফায় দফায় জেরা করে আরও তথ্য বের করে আনা হচ্ছে। এই আবহে দিলীপ ঘোষ কড়া ভাষায় বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর জম্মু-কাশ্মীর থেকে তামিলনাড়ু বা অসম থেকে গুজরাত সর্বত্র জঙ্গি দমন শুরু হয়েছে। দক্ষিণ ভারত থেকে মধ্য ভারত, পূর্ব ভারতে যে মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চল ছিল তার শেষ হয়েছে। শেষ ঘাঁটি ছিল পশ্চিমবঙ্গ। এখানে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা জঙ্গিদের লালন পালন করেছে এতদিন। বাংলাদেশ থেকে ডেকে নিয়ে এসেছিল। থাকার জায়গা দিয়েছিল। আমি যে নিউটাউনে দাঁড়িয়ে আছি সেটা জঙ্গিদের ঘাঁটি ছিল একসময়। টেরারিস্ট থেকে গ্যাংস্টার এই শাপুর্জিতেই পাওয়া গিয়েছে। আর এদের মূল উপড়ে ফেলার কোন চেষ্টাই করা হয়নি।’
সোমবার ৪ আগস্ট স্বর্ণযুগের গায়ক কিশোর কুমারের জন্মদিন। ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গে গানে গলা মিলিয়ে মেতে ওঠেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তারপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এখানেই সরাসরি গত সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘এখন এদের শেষ ঘাঁটি যখন উপড়ে ফেলা হচ্ছে। তখন রিভেঞ্জ তো একটা নেবেই। রাজ্য সরকারকে সাবধান থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের সব এজেন্সিকেও সতর্ক থাকতে হবে। একটু সতর্ক থাকতে হবে সাধারণ মানুষকেও। এরা শেষ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে পশ্চিমবঙ্গে। কারণ, রাজনৈতিক ছাতার তলাতেই এরা বেড়ে উঠেছে। সেই ছাতা এখন সরে গিয়েছে। তাই শেষ রিভেঞ্জ ওরা নেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে প্রশাসন সতর্ক আছে।’
তাছাড়া কদিন আগে রাজ্যের আর এক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। হামিম-অর্পিতার প্রেম কাহিনী থেকে শুরু করে জেরা একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে আসছে তদন্তকারীদের। একইসঙ্গে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষে থেকে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কারণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘এগুলি আগে থেকেই চলত। কোন অভিযোগ নেওয়া হত না। এখন ঘটনাগুলি সামনে আসছে। সব ব্যাপারে চোস্ত দুরস্ত হতে হবে পুলিশকে। আগে পুলিশের কাজ ছিল টাকা তুলে টিএমসি নেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পুলিশকে তাদের কাজে ফিরিয়ে আনতে গেলে সময় লাগবে। তাদের কাছে সোর্স নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই ধরনের ঘটনা সোর্সের মাধ্যমে খবর আসে। কেন্দ্রীয় সংস্থার সহায়তা নিয়ে এখানকার পুলিশ কাজ করবে। আর এই সব সমস্যার সমাধান করবে। আর শুধু রক্ত নয় মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়েও ব্যবসা চলত। কিছু লোক ধরা পড়েছে আগে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের লোকই জনপ্রতিনিধি হয়ে গিয়েছে। নেতা মন্ত্রী এমএলএ এমপি হয়েছে। অনেক তথ্য সামনে আসছে। সামনে আরও প্রকাশ পাবে।’