আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। আর তা নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি সরগরম। কারণ ঋত শিবির নির্দল হিসাবে দাঁড়াবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন আখরুজ্জামান। যদি ঘাসফুল প্রতীক না পান। আর কালীঘাট অপেক্ষা করে আছে ফয়সালা হওয়ার পরই প্রার্থী ঘোষণা করবেন। এই আবহে হাতে সময় অত্যন্ত কম। তাতে কার কাছে ঘাসফুল প্রতীক যাবে সেটা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। এই আবহে বৃহস্পতিবার উপনির্বাচন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
ইতিমধ্যেই ঋত শিবির ঘোষণা করেছে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তারপর থেকেই নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামে কি আবার প্রার্থী হবেন তৃণমূল সুপ্রিমো? এই প্রশ্ন উঠলেও কালীঘাট শিবির সূত্রে খবর, দুটি পথ অবলম্বন করবেন তাঁরা। নির্বাচন কমিশন ঘাসফুল প্রতীক দিলে তাঁরা প্রার্থী দেবেন। আর তা না হলে মামলা করবেন। এমনকী এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। এই আবহে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন। এই বিষয়টি নিয়ে খোঁচা দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘উনি নন্দীগ্রামে হেরেছেন। ভবানীপুরে হেরেছেন। আবার কি নন্দীগ্রাম গিয়ে হারবেন? কিছু লোক ওনাকে পালে হওয়া দিচ্ছে। উনি আর কোথায় কোথায় গিয়ে হারতে চান সেটা ওনার ব্যাপার। লোকজন ওনাকে উল্টো বুদ্ধি দিচ্ছেন। যান গিয়ে লড়ুন। লড়াইটা জমুক।’
তৃণমূলের এই দুই শিবিরকে ইতিমধ্যেই আগামী ১২ তারিখ শনিবার নির্বাচন কমিশনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। নিজেদের বক্তব্য এবং নথি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে ঘাসফুল প্রতীক আসলে কার? সেখানে দুই শিবিরের পাঁচজন করে প্রতিনিধি যেতে পারবেন। এমনই ফরমান জারি করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমন অবস্থায় দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘তৃণমূল মাথায় যুদ্ধের পাগড়ি বাঁধতে বাঁধতে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। প্রতীক কার? লোকজন কার? এইসব করতে করতে লোকসভা ভোট পেরিয়ে যাবে।’ কিন্তু রেজিনগরে কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে পঞ্চায়েতমন্ত্রীর দাবি, ‘বাবরি মসজিদ রাজনৈতিক মসজিদ ছিল। ওখানে মানুষ ঠিক করবেন তাঁরা উন্নয়ন চান কিনা।’
তাছাড়া দুর্গাপুজোর পর কলকাতা পুরসভা এবং হাওড়া পুরসভার নির্বাচন আছে। সেখানে বিজেপি কেমন ফল করবে? তাতে দিলীপ ঘোষের জবাব, ‘অবশ্যই গেরুয়া ঝড় বইবে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে যে পরিবর্তন হয়েছে সেটা পুরসভা এবং পঞ্চায়েত ভোটের মধ্যে দিয়ে বৃত্ত সম্পূর্ণ করবে। কলকাতা গতানুগতিকতা ছাড়িয়ে বদল ঘটাবে।’