রাজ্য-রাজনীতিতে পালাবদলের পর সব অঙ্ক পাল্টে গিয়েছে। ২০ জন সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। আগামী দিনে তাঁদের সাংসদ পদ থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এনডিএ’কে সমর্থন করার কথা তাঁরা খোলাখুলি ঘোষণা করলেও এখনও শরিক হতে পারেনি এনসিপিআই। বরং সুপ্রিম কোর্ট এবং লোকসভার স্পিকারের নোটিসের ধাক্কায় বেসামাল এই সাংসদরা। এমন এক আবহে উন্নয়ন যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। তাই রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবার সরাসরি ফোন করলেন তৃণমূলের টিকিটে জেতা সাংসদ অধুনা এনসিপিআই দলে যুক্ত হওয়া জুন মালিয়াকে। তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে উন্নয়ন নিয়ে।
এদিকে এই কথোপকথনের বিষয়টি নিজে মুখে জানাননি দিলীপ ঘোষ। তবে তা রবিবার জানিয়েছেন জুন মালিয়া স্বয়ং। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি সমালোচনা করতে দেখা যায়নি জুন মালিয়াকে। আবার রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও তাঁর ভাল লাগে। নিজে মুখেই সে কথা জানিয়েছিলেন খড়গপুরের সাংসদ। কী কথা হয়েছে দু’পক্ষের? সেটা এখন সকলেই জানতে চান। তবে আগামী কয়েকদিন নানা কাজ করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন জুন। তখনই জানালেন দিলীপ ঘোষের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হওয়ার বিষয়টি।
অন্যদিকে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ খড়গপুর থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। তাই খড়গপুরের সার্বিক উন্নতি ঘটাতে হলে সাংসদের সহযোগিতাও প্রয়োজন। তৃণমূলে থাকাকালীন জুন মালিয়াকে তেমন ভূমিকায় দেখা যায়নি। তবে এখন এনসিপিআই দলে থাকায় বিজেপির মন্ত্রীর অনুরোধে সাড়া দিলেন জুন মালিয়া। এই বিষয়ে জুন মালিয়া সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘দিলীপ ঘোষবাবু ফোন করেছিলেন গতকাল। খড়গপুরের একটি হাসপাতালে যদি এমপি ল্যাড থেকে কাজ করে দিতে পারি। ৩৫-৪০ লক্ষ টাকা লাগবে প্রায়। সেটাও করে দেব, বলেছি।’
তবে শুধু এটুকই কথা হয়েছে এমন নয়। আরও কথা হয়েছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে। তাতে সাংসদ পদ থাকবে নাকি খারিজ হবে সেটা বোঝা যাবে। ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দেওয়া নোটিসের জবাব দিতে সময় চেয়েছেন তাঁরা। তাহলে এনসিপিআই দলের ভবিষ্যৎ কী? উঠছে প্রশ্ন। যদিও সাংসদ জুন মালিয়ার কথায়, ‘খড়গপুর টাউনে একটি হাসপাতাল আছে। সেটার অবস্থা খারাপ। সেখানে অক্সিজেন পাইপলাইন করতে হবে। আমি ভেবেছিলাম একবার। তবে তখন হয়ে ওঠেনি। গতকাল দিলীপবাবু বললেন, করে দেব আমি। নতুন সরকারের জমানায় আমার অন্তত কাজ করতে অসুবিধে হচ্ছে না। আমি কাজ করতে চাই। আমি পরশু যাচ্ছি কেন্দ্রের একটি টিবি সচেতনতামূলক কর্মসূচি আছে। প্রত্যেক বছরই হয়। আগের সরকারের সময় করিনি। কিন্তু এবার বর্ষা অধিবেশনে নাড্ডাজি সাংসদদের বলেছিলেন এই কর্মসূচির কথা। টিবি মুক্ত ভারত অভিযানে, প্রত্যেক সাংসদদের বলা হয়েছে নিজেদের এলাকায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি করতে। আমি পরশু মেদিনীপুর টাউনে কর্মসূচি পালন করব। তারপর সব বিধানসভায় কাজ করব।’