চিকিৎসকদের জন্য শরীরচর্চা কেন্দ্রের প্রস্তাব মন্ত্রীর, বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ঘোষণা

Sports Minister Indranil Khan Photo-SNS

এখন সাধারণ মানুষজন অত্যন্ত স্বাস্থ্য সচেতন। আর তাই প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে প্রাতঃভ্রমণ করে থাকেন। অনেকে আবার শরীরচর্চা করে থাকেন। সকালে মাঠের মধ্যে অনেককে যোগা করতে দেখা যায়। প্রাণায়ম থেকে শুরু করে ব্যায়াম সবই করতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। অনেকে আবার চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে এসব করে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসকরা কি শরীরচর্চা করেন? নাকি তাঁদের এসবের প্রয়োজন নেই? এমন প্রশ্ন নানা সময়ে উঠেছে। এবার শুধু অত্যাধুনিক চিকিৎসার উপর নির্ভর থাকলে চলবে না। নীরোগ থাকতে হলে নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে শরীরের। তাই প্রত্যেকটি হাসপাতালে এবার থেকে চিকিৎসকদের জন্য শরীরচর্চা কেন্দ্র তৈরি করার প্রস্তাব দিলেন রাজ্যের ক্রীড়াযুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।

এমনটাও যে হতে পারে সেটা বহু চিকিৎসক কল্পনাই করতে পারেননি। কিন্তু এই উদ্যোগকে চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ সমর্থন করেছেন। কারণ কাজের চাপে তাঁদের পৃথকভাবে শরীরচর্চা করা হয়ে ওঠে না। সেখানে কর্মস্থলেই যদি এমন ব্যবস্থা থাকে তাহলে চিকিৎসার ফাঁকে অবসর সময়ে শরীরচর্চা করা সম্ভব হবে। এই ভাবনা থেকেই কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির স্বাস্থ্য সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের ক্রীড়া যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ঘোষণা করেন, ‘প্রত্যেকটি হাসপাতালে অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসার জন্য আছে নানা পরিকাঠামো। কিন্তু চিকিৎসকদের সুস্থ থাকার জন্য তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই। প্রত্যেকটি হাসপাতালে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও শরীরচর্চার পরিকাঠামো থাকা উচিত। চিকিৎসকরা যেখানে শরীরচর্চা করতে পারবেন। শরীরকে স্বাস্থ্যকর রাখতে গেলে নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি।’

চিকিৎসকদের অনেকেই এমন ভেবেছিলেন। কিন্তু তা কখনও কাউকে জানাননি। কোনও প্রস্তাবও দেননি। সেখানে এই খবর চাউর হতেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে চিকিৎসক মহলে। তবে শুধু চিকিৎসক নয়, নার্স-আয়া থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীরা পর্যন্ত শরীরচর্চা করতে পারবেন। এমন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে সরকারি হাসপাতালে বলে জানা গিয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালের শীর্ষ কর্তাদের পর্যন্ত এই প্রস্তাব দেন মন্ত্রী।


তাছাড়া এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি হাসপাতালের শীর্ষ কর্তারা। বেলভিউ হাসপাতালের পক্ষ থেকে ছিলেন প্রদীপ ট্যান্ডন, উডল্যান্ডস হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও রূপক বড়য়া, এইচসিজি ক্যানসারের হাসপাতালের রূপালি বসু এবং সিআইআই ইস্টার্ন রিজিয়নের চেয়ারম্যান মেহুল মোহাঙ্কা। আগামী দিনে স্বাস্থ্যখাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা আছে রাজ্যে বলে জানানো হয়। আর প্রায় এক লক্ষ কর্মসংস্থান হতে চলেছে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে। এই বিষয়ে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ‘রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে।’