বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিস মিলল খোদ শহরে, উদ্ধার বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ

Illegal Arms Found STF Photo-SNS

চতুর্থীর সকালে দুর্গাপুজোর আমেজে মেতে উঠেছেন শহর থেকে গ্রামবাংলার মানুষজন। আর ঠিক তার মধ্যেই বড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) দল। বুধবার একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার হদিস পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। তাও আবার খোদ শহরের বুকে। যা নিয়ে এখন তুমুল আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে কলকাতায় ‘নাশকতার গন্ধ’ পেয়ে অভিযানে নেমে পড়ে বেঙ্গল এসটিএফ। কলকাতার নাদিয়াল থানার আয়ুবনগরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের গোয়েন্দারা একটি বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানার হদিস পেলেন। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার হয় একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং অস্ত্র তৈরির প্রচুর সরঞ্জাম। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে গিয়েছে। নাদিয়াল থানায় অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে এসটিএফ।

পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে এই অবৈধ অস্ত্র কারখানার খবর এসেছিল এসটিএফের হাতে। আর সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কলকাতার নাদিয়াল থানা এলাকার আয়ুবনগরের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে আছে দুটি সেভেন এমএম পিস্তল এবং দুটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র। একইসঙ্গে রয়েছে নানা ধরনের তাজা কার্তুজ, ব্যবহৃত কার্তুজ। এমনকী অস্ত্র তৈরির বেশ কিছু সরঞ্জামও মিলেছে। এই অস্ত্র কারখানা কেন গড়ে তোলা হয়েছিল? এখান থেকে অস্ত্র কোথায় সরবরাহ করা হতো? এখানে কাদের আনাগোনা ছিল? কতদিন ধরে এই কারবার চলছিল? এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

তবে এই অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। তার সঙ্গে সাঙ্গপাঙ্গরাও ছিল। বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই কাজ চলছিল। যদিও ওই পলাতক ব্যক্তির পরিচয় জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় নাদিয়াল থানায় অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী থেকে ওই বাড়িতে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কাজ চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন তদন্তকারী দল। এই বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানার সঙ্গে আর কারা জড়িত সেটা জানতে তদন্ত শুরু করেছেন অফিসাররা।


তাছাড়া পাঁচ মাস হয়েছে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এখন এখানে বিজেপি সরকার। তার উপর আবার নভেম্বর মাসের শেষে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খোদ কলকাতার বুকে বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানা মেলায় নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠছে। এই সব অস্ত্র কেন তৈরি করা হচ্ছিল? এইসব অস্ত্র কাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল? উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা। এখন দেখার তদন্তে কোনও বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে কিনা।