চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় এখন সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। কেমন করে ঘটলএমন ঘটনা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বৃহস্পতিবার চোরবাগানে হাজির হল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।এদিনই হাজির হয় ফরেনসিক দলও। মণ্ডপের ভিতর এবং বাইরে থেকে তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে সূত্রের খবর। চোরবাগানে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। যে চোরবাগানের মণ্ডপ দুর্ঘটনার আগে মানুষের ভিড়ে তিলধারণের জায়গা ছিল না, সেখানে এখন খাঁ খাঁ করছে। মণ্ডপ চত্বরে পরিণত হয়েছে নিস্তব্ধতা। সব যেন কেমন চুপ করে গিয়েছে। থেমে গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
এই দুর্ঘটনার তদন্তে ৬ সদস্যের সিট গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তিনি সবটা খতিয়ে দেখছেন। তারপর রিপোর্ট পেশ করবেন। তিন মাস হাতে সময় রয়েছে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পরই কড়া পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। কাউকে যে ছাড়া হবে না তা আগেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই আবহে দশমীতে মণ্ডপে কোনও দেবীবরণ হয়নি। তবে ঘট বিসর্জন হয়েছে। যদিও প্রতিমা নিরঞ্জন এখনও বাকি। কবে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে সেটার কোনও দিনক্ষণ এখনও স্থির করা হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র মিললে তবেই প্রতিমা নিরঞ্জন করা সম্ভব হবে। সুতরাং চোরবাগান সার্বজনীনের প্রতিমা নিরঞ্জন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ চোরবাগান সার্বজনীনের মণ্ডপে পৌঁছন তদন্তকারী দলের ৬ জন সদস্য। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন তাঁরা। পদপিষ্টের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল ফরেনসিক দলও। মণ্ডপের ভিতর এবং বাইরে থেকে তাঁরা নমুনা সংগ্রহ করেন বলে সূত্রের খবর। এই বিপর্যয়ের নেপথ্যের আসল কারণ খুঁজে বের করাই সিটের মূল দায়িত্ব। পুরো ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে এই কমিটিকে। ঠিক কোন সময়ে এবং কোথায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, মণ্ডপের নির্ধারিত ধারণ ক্ষমতার তুলনায় সেদিন অতিরিক্ত ভিড় হয়েছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
তাছাড়া পুজোমণ্ডপ ভেঙে পড়ার গুজব অথবা ঘোষণা থেকে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কিনা সেটাও দেখা হবে। বৃষ্টির কারণও তদন্তকারীদের কাছে অন্যতম বিচার্য বিষয় বলে সূত্রের খবর। চোরবাগানের এই ঘটনার পর ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই দুর্ঘটনায় জড়িত কাউকেই যে রেয়াত করা হবে না সেটা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য যে দল গঠন করা হয়েছে সেখানে স্বচ্ছতার স্বার্থে কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভাকে রাখা হয়নি।