দৈনিক স্টেটসম্যানের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিলেন শ্রী সারস্বত গৌড়ীয় বৈষ্ণব অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক জগদ্ধাত্রীয় দাস। তাঁর বক্তব্য, গীতার মাধ্যমে সনাতন ধর্মের প্রচারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ‘হরে কৃষ্ণ হরে হরে, গীতা পাঠ ঘরে ঘরে’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে তিনি বলেন, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা সনাতন ধর্মের অন্যতম মূল ভিত্তি। গীতার মাধ্যমে ধর্মপ্রচারের অর্থ শুধু ধর্মীয় শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং মানুষের জীবনকে আরও সরল, সুন্দর ও নীতিনিষ্ঠ করে তোলা।
প্রয়োজনে পাঠ্যক্রমে গীতার অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, গীতার জ্ঞান কোনও নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়; সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্যই এই জ্ঞান।
ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের রচিত ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ’-এ কৃষ্ণপ্রেম ও গীতার দর্শন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শতাধিক ভাষায় গীতা অনুশীলন, গীতাপাঠ ও গীতাপূজার আয়োজন হয়েছে।
জগদ্ধাত্রীয় দাস বলেন, বাংলার প্রতিটি ঘরে গীতাকে শুধু পুজোর সামগ্রী হিসেবে নয়, তার বাণীকে জীবনের বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার উদ্দেশ্যে গীতা অনুশীলনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে ভারতবর্ষের প্রতিটি ঘরে গীতাকে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। মায়াপুরের আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের ঘরে ঘরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গীতা পৌঁছে দিয়েছেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা গীতার শিক্ষার মাধ্যমে ভারতীয় সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই।’’ তাঁর দাবি, আরবি ভাষাতেও গীতা অনূদিত হয়েছে। সেই অনুবাদক প্যালেস্তিনীয় আন্দোলনের অন্যতম নেতা বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আরবি ভাষায় গীতার বিপুল সংখ্যক কপি প্রকাশিত হচ্ছে এবং তা পাঠও করা হচ্ছে।