নন্দীগ্রাম, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা— ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) পর্বে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। শাসকদল থেকে বিরোধী, সকলের তরজার কেন্দ্রেই ছিল ভোটার তালিকা।
সেই আবহেই নতুন ভোটারদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করল নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে গেলে আবেদনকারীকে শুধু ফর্ম-৬ পূরণ করলেই হবে না, বাবা-মায়ের এসআইআর (SIR)-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও জানাতে হবে।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফর্ম-৬-এর সঙ্গে একটি ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। সেখানে আবেদনকারীর বাবা ও মায়ের এসআইআর-সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। অনলাইনে আবেদন করলেও এই অংশ পূরণ না-করা পর্যন্ত পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন: তিন দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের দাবি, এই তথ্য নতুন ভোটারদের পরিচয় নির্ভুলভাবে যাচাই করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি আবেদনপত্রের সঙ্গে অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজনও কমবে। কমিশনের বক্তব্য, ফর্ম-৬-এর মূল কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। কেবল নির্দেশিকার মাধ্যমে ঘোষণাপত্রটি যুক্ত করা হয়েছে।
যদিও পশ্চিমবঙ্গে এই নির্দেশিকার রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক বেশি। কারণ, এসআইআর চলাকালীন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর-সহ কয়েকটি জেলায় সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল বিরোধীরা।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য সেই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের আপত্তি জানানোর এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।কমিশনের দাবি, এসআইআরের লক্ষ্য কোনও যোগ্য ভোটারকে বাদ দেওয়া নয়; বরং ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল করা।
সেই কারণেই দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া বা বিদেশি নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত যোগ্য নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আর সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের এসআইআর (SIR) তথ্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ভোটার তালিকা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও থামেনি, তার মধ্যেই কমিশনের এই পদক্ষেপ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/Rg_R3ZhpYrA?si=97qe0Ioprnet8T9O” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>