নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে ভিবজিওরের সম্পত্তি বিক্রি! ইডির তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

File photo

আদালতের নিষেধাজ্ঞা, কলকাতা হাইকোর্টের নজরদারিতে গঠিত কমিটি, কিছুই কি আটকাতে পারল না ভিবজিওর চিটফান্ড সংস্থার সম্পত্তি হাতবদল? আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একের পর এক সম্পত্তি গোপনে বিক্রি ও হস্তান্তরের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কমিটির হেফাজতে থাকা সম্পত্তি কীভাবে অন্যের হাতে চলে গেল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-কে।

এখনও যে সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি, সেগুলি দ্রুত সিজ করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দিয়েছে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতে মামলাটি উঠলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, ডিরেক্টরেট অফ ইকনমিক অফেন্সেসকে দিয়ে ইতিমধ্যেই একটি প্রাথমিক তদন্ত করানো হয়েছে। সেই তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেই উঠে এসেছে একাধিক সম্পত্তি বেআইনিভাবে হাতবদলের অভিযোগ।

সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে একাধিক সম্পত্তি নিয়ম ভেঙে হস্তান্তরিত হয়েছে। শুধু উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সে প্রায় ৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তিই নয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সম্পত্তিও হাতবদল হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।


এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটির হেফাজতে থাকা সম্পত্তি কীভাবে বিক্রি বা হস্তান্তর করা সম্ভব হল? নজরদারির ফাঁকেই কি সম্পত্তি সরিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব ইডির হাতে তুলে দিল হাইকোর্ট। সম্পত্তির মালিকানা, হস্তান্তরের পদ্ধতি এবং এর পিছনে কারা রয়েছেন, তদন্তে সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

অন্যদিকে, আমানতকারীদের আইনজীবী শুভাশীষ চক্রবর্তী ও অরিন্দম দাস আদালতে অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে অন্য সংস্থার নামে সম্পত্তি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই সম্পত্তি অবাধে রেজিস্ট্রি ও বিক্রি করার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, কমিটির নজরদারি এড়িয়েই বিপুল অঙ্কের সম্পত্তি হাতবদল করা হচ্ছে। এর ফলে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা এবং তাঁদের অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য রাজ্যের তরফে আদালতের কাছে আরও কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। তবে সম্পত্তি হাতবদলের অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত আর দেরি করতে রাজি নয়। এখনও যেসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়নি, সেগুলিকে অবিলম্বে সিজ করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

আরও পড়ুন: মিডিয়া ট্রায়ালের অভিযোগে হাইকোর্টে অভিষেক, দ্রুত শুনানির সুযোগ খারিজ আদালতের

আগামী ২৬ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন রাজ্য সরকার হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটি এবং ইডি, তিন পক্ষকেই বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কীভাবে সম্পত্তি হাতবদলের অভিযোগ উঠল, তদন্তে তার জবাব মেলে কি না এখন সেদিকেই নজর আমানতকারীদের।