রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। আর এবার তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু করল সিলেবাস কমিটি। মঙ্গলবার সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে নবগঠিত সিলেবাস কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। ওই বৈঠক শেষে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, আগের সরকারের মতো তড়িঘড়ি করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষে এখন যে পাঠ্যবইগুলি আছে সেগুলি বহাল রেখে মূলত পর্যালোচনা করা হবে। তবে ২০২৮ সালে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পুনর্গঠন আনার স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। সুতরাং সকলের কৌতূহল তৈরি হয়েছে, নতুন কিছু যুক্ত হবে কিনা বা কিছু বাদ যাবে কিনা তা নিয়ে।
এদিনের বৈঠকে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ, শিক্ষা দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী এবং শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই সিলেবাস কমিটির সদস্য অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা বৈঠকে অংশ নেন। তবে এখানে বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব তথাগত রায়ও আমন্ত্রিতদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। পড়ুয়াদের পাঠক্রম কেমন হবে? সেটা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কারণ এখন যুগ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। সমাজমাধ্যম থেকে শুরু করে এআই এসে গিয়েছে। সুতরাং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি করতে হবে নয়া সিলেবাস।
এই সিলেবাস আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। যাতে পড়ুয়াদের ভাল লাগে। পুরনো নানা বিষয়ও থাকবে। তার সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন অনেক কিছু। যা পড়ুয়াদের যুগোপযোগী করার পাশাপাশি ব্যবহারিক জীবনে কাজে লাগবে। শিক্ষামন্ত্রী বৈঠকের পর জানান, সময় কম থাকায় ২০২৭ সালের জন্য নতুন করে পাঠ্যসূচিতে কোনও রদবদল হচ্ছে না। প্রথা মেনে ২০২৭ সালের ২ জানুয়ারি ‘বই দিবস’ পালনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু ২০২৮ সালের নতুন সিলেবাসের খসড়া সম্পূর্ণ তৈরি হওয়ার পর সেটা জনসমক্ষে আনা হবে। নানা রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের কাছে মতামত চাওয়া হবে। সেমিস্টার পদ্ধতি অথবা পাস-ফেল প্রথা ফেরানোর মতো বিষয়গুলি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ সালের নির্দেশিকা মেনে ২০২৮ সালের নতুন পাঠ্যক্রমেই বিবেচনা করা হবে।
নতুন পাঠ্যক্রমে সিঙ্গুর আন্দোলন কি থাকবে? রামধনু শব্দ থাকবে কি? এমন নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বলা ভাল তা নিয়ে কৌতূহলী মানুষজনও। এই বিষয়ে স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, ‘পাঠ্যক্রমে কোনও রাজনীতি থাকবে না। থাকবে ভীতিমুক্ত পরিবেশ এবং বিজ্ঞানমনস্কতা। সিঙ্গুর বা সাম্প্রতিক ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে রাখা যুক্তিসঙ্গত কিনা সেটা শিক্ষাবিদরাই বিবেচনা করবেন। সিলেবাস কমিটি যে পরামর্শ বা সুপারিশ দেবে সেটা দেখে রাজ্য সরকার সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। সিলেবাস কমিটি যদি মনে করে বর্ণচ্ছটা বোঝাতে ‘রামধনু’ শব্দটিই উপযুক্ত, তবে সেটিই থাকবে। সিলেবাস কমিটির উপর কোনওরকম রাজনৈতিক চাপ দেওয়া হবে না। রাজ্য সরকার কোনও অহমিকায় ভোগে না।’