শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের মধ্যে শীর্ষে নিয়ে যাবই। এই কথা শিক্ষক দিবসে বলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য নয়া ভাবনা নিয়ে আসা হচ্ছে। রাজ্যের স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘এক দেশ, এক পরিচয়পত্র’ তৈরি এবং তথ্য নথিভুক্তিকরণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন। রাজ্যজুড়ে এই মেগা কর্মসূচি হবে। তাই জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের বিশেষ কর্মশালা আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, অভিভাবকদের লিখিত সম্মতি ছাড়া কোনও শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র বানানো যাবে না। তাই ‘পেরেন্টাল কনসেন্ট ফর্ম’ ছাপিয়ে প্রত্যেকটি স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কদিন আগে এই বিষয়ে দু’দিনের একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রত্যেকটি জেলায় একজন করে নোডাল শিক্ষক এবং একজন করে এমআইএস কো-অর্ডিনেটরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁরাই এবার নিজ নিজ জেলায় গিয়ে প্রশিক্ষণ এবং কাজ করার মূল দায়িত্বে নেবেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের চূড়ান্ত এসওপি অনুমোদন পেলে সেটা দ্রুত প্রত্যেকটি জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণের পরিধি বৃদ্ধি করা এবং সার্বিক কাজ বাস্তবায়িত করার মূল দায়িত্ব থাকবে এই যৌথ নেতৃত্বের উপরেই। অর্থাৎ নোডাল শিক্ষক এবং এমআইএস কো-অর্ডিনেটর।
এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রত্যেকটি জেলার অন্তত দু’টি স্কুলে এবং দু’টি শ্রেণির পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে এনরোলমেন্ট ক্যাম্প করতে হবে। সোমবার থেকে সার্কেল ভিত্তিক এই ক্যাম্পের আয়োজন করতেও বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি সার্কেল থেকে দু’টি করে নির্বাচিত স্কুলে নোডাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আর প্রত্যেকদিন অন্তত ৫০ জন পড়ুয়ার নাম নথিভুক্ত করতে হবে। রাজ্যের সব স্কুলে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজের স্বচ্ছতা এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রোজকার অগ্রগতির তথ্য অনলাইনে পর্যবেক্ষণ করবেন জেলা শিক্ষা আধিকারিকরা। স্কুলের তৈরি করা প্রাথমিক তালিকা সার্কেল স্তর হয়ে জেলা শিক্ষা দপ্তরের টেবিলে পৌঁছে যাবে।
তাছাড়া ‘ওয়ান স্টুডেন্ট আইডি’ তৈরি হলে ছাত্রছাত্রীদের উপকার কী হবে? এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন সূত্রে খবর, এই ‘ওয়ান স্টুডেন্ট আইডি’ একজন পড়ুয়ার গোটা ছাত্রজীবনের একটি ডিজিটাল পোর্টফোলিও গড়ে উঠবে। যেখানে পরীক্ষার ফলাফল থেকে শুরু করে ডিগ্রি, সার্টিফিকেট এবং সহপাঠ্যক্রমিক সমস্ত অর্জন করা তথ্য জমা থাকবে। এখানেই শেষ নয়, এই আইডি ডিজি-লকার এবং অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অফ ক্রেডিটের (এবিসি) সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তার ফলে যে কোনও সময় সহজে নথি যাচাই এবং স্থানান্তর করা যাবে সহজে। এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে অথবা এক বোর্ড থেকে অন্য বোর্ডে নাম বদল কিংবা ভর্তির প্রক্রিয়া এটার মাধ্যমে অত্যন্ত সহজ হবে।