সিবিআই তদন্ত দেওয়া হোক, কালীঘাট মন্দিরে গয়না চুরি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দাবি সাবর্ণ পরিবারের

Kalighat Temple Photo-ANI

কদিন আগে অভিযোগ ওঠে কালীঘাট মন্দির থেকে গয়না চুরি হয়ে গিয়েছে। সেখানে থাকা অর্থ তছরূপ করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর গোটা রাজ্যে তুমুল আলোড়ন পড়ে যায়। কারণ কালীঘাট মন্দির সতীপীঠ। সেখানে বাঙালির আবেগ জড়িয়ে আছে। সুতরাং খোদ সতীপীঠে চুরি, দুর্নীতির অভিযোগ ভক্তদের ভাবাবেগে আঘাত লাগবে। কেমন করে এই চুরি হল? কারা আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িত? এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে সাবর্ণ রায়চৌধুরীর পরিবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করল।

শুধু মামলা করেই থেমে থাকেননি, সর্বোচ্চ আদালতের কাছে এই অভিযোগের তদন্তে সিবিআই চেয়েছেন তাঁরা। সুতরাং কালীঘাট মন্দিরে ঠিক কী হয়েছে তা জানতে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কারণ একাধিক অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সাবর্ণ রায়চৌধুরীর পরিবার। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী সরাসরি চিঠি পাঠিয়েছেন। সিবিআই তদন্তের কথা লেখা আছে তাতে। আর তা যদি না দেওয়া হয় তাহলে অবসরপ্রাপ্ত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত কমিটি গড়ার দাবি করা হয়েছে ওই চিঠিতে। এমনকী মন্দির পরিচালনায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবিও করা হয়েছে সেখানে।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে বেশ কয়েকটি দাবিগুলি জানানো হয়েছে। তার মধ্যে আছে-কালীঘাট মন্দিরের যাবতীয় অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে অবিলম্বে সিবিআই তদন্ত দেওয়া হোক। অথবা কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ সিট গঠন। সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম মেনে জেলা জজ, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি ও সাবর্ণ পরিবারের দু’জন সদস্য-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে কালীঘাট মন্দিরের নতুন পরিচালন কমিটি গঠন।


তাছাড়া এই দাবিগুলির মধ্যে কোনগুলিতে সিলমোহর পড়বে সেটা এখনও জানা যায়নি। তবে যদি সিবিআই তদন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালত দেয় তাহলে সেটা বড় ঘটনা হয়ে যাবে। এই বিষয়ে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরীর বলেছেন, ‘গোটা ঘটনায় পর পর পদক্ষেপ করতে চাই। প্রথমে জেলা জজকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। সেখান থেকে জবাব না পেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিতে বাধ্য হলাম। তাতেও যদি সাড়া না পেলে তাহলে জনস্বার্থ মামলার কথা ভাবব।’ এই চিঠির পর জল কোনদিকে গড়ায় সেটাই এখন দেখার।