ব্যবসায়ীর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ১ কোটি টাকা লুঠ, পোস্তার ঘটনায় তদন্তে লালবাজার

Posta Robbery Photo-SNS

বড়বাজারের কটন স্ট্রিট এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। বন্দুকের নল মাথায় ঠেকিয়ে একটি অফিস থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা নগদ লুঠ করে পালিয়েছে ডাকাতদের দল। ওই অফিস সূত্রে খবর, মোট চারজন ডাকাত সেখানে ঢুকে কর্মীদের বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখায়। প্রাণের ভয় দেখিয়ে কর্মীদের বন্দি করে অফিসে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ব্যাগে ভরে চম্পট দেয় তারা। টাকা লুঠ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ছাড়ে ডাকাতরা। এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। কেমন করে ডাকাতরা অফিসে ঢুকল, লুঠের পর কোন পথে তারা পালিয়েছে এবং এই ঘটনায় কারা জড়িত সবটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ডাকাতি করে চম্পট দেয় ডাকাতদল বলে খবর।

এদিকে বড়বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় এমন ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লুঠ হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এবং অভিযুক্তদের পরিচয় নিয়ে পুলিশের তদন্তের পর আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবার রাতে পোস্তা এলাকায় কার্যত হাড়হিম কাণ্ড ঘটে যায়। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই ঘটনার তদন্ত করতে শুরু করেছে। লালবাজারের গোয়েন্দারাও ঘটনাস্থলে গিয়ে গোটা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। লালবাজারের এক অফিসার জানান, ওই গদির মালিক এবং কর্মচারীদের সব জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখেও অভিযুক্তদের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে পোস্তা এলাকার কটন স্ট্রিটে গদির মালিকের অফিসে ডাকাতির অভিযোগ ওঠে। ওই গদির কর্মীদের অভিযোগ, হঠাৎই গদিতে হাজির হয় চার যুবক। মুখে কালো কাপড় বেঁধে এসেছিল। ওইদিনই গদিতে এক কোটি টাকারও বেশি টাকা এসেছিল। সেটা রাখা ছিল সিন্দুকে। ওই ডাকাতরা গদির মালিক এবং কর্মচারীদের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকায়। আর দু’জন সিন্দুক থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বের করে নেয়। ওই টাকা একটি ব‌্যাগে ভরে চম্পট দেয় তারা। যাওয়ার সময় ডাকাতরা ভয় দেখাতে বলে যায়, প্রাণে বাঁচতে চাইলে মুখ বন্ধ রাখতে হবে। গদির মালিক ও কর্মচারীদের এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়ে কাঁপতে থাকেন। এরপর তারা চম্পট দিতেই কর্মচারীরা চিৎকার করে তাদের পিছু নেয়।


তাছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গদির দোকানের কর্মীদের চিৎকার শুনে সবাই ছুটে আসেন। ডাকাতদলকে ধরতে সবাই মিলে পিছু নেয়। তাদের মধ্যে একজনকে ধরেও ফেলা হয়। কিন্তু বাকিরা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। কিন্তু এই গদির মালিকের অফিসেই ১ কোটির বেশি টাকা আছে সেটা তারা জানল কেমন করে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কারণ ডাকাতরা আর কোথাও যায়নি। একবারে এখানে এসে হাজির হয়। এই বিষয়ে গদির মালিকের দাবি, দুপুরে ডাকাতরা রেইকি করেছিল। রাতে আবার ডাকাতি করতে আসে তারাই। এই ডাকাতির পিছনে গদির কোনও পরিচিত ব‌্যক্তি জড়িত আছে কিনা সেটা জানতে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।