নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করল ঋতব্রত শিবির, এক প্রতীকে দু’পক্ষ

LOP Ritabrata Banerjee Photo: Statesman

প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। সোমবার সন্ধ্যায় দুই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। নন্দীগ্রামে এহেতাশ মুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখকে প্রার্থী করেছে ঋতব্রত শিবির। অন্যদিকে, কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে।

এদিকে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আদালতে মামলা চলছে। কোটি কোটি টাকার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি দলের প্রতীক নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রতপন্থী শিবিরের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের বক্তব্য ও নথি জমা দিয়েছে।

নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার জল্পনা দীর্ঘদিনের। তিনি প্রার্থী হলে ঋতব্রতপন্থী শিবির প্রার্থী দেবে না বলেও জানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মমতা প্রার্থী না হওয়ায় ঋতব্রতপন্থীরা দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে।


তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও জোড়াফুল প্রতীকেই লড়াই করার দাবি জানিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই কারণেই তাঁরা জোড়াফুল প্রতীকেই প্রচার করবেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর কমিশনের নির্ধারিত সময় এবং ১৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এখন কমিশনে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর দুই শিবিরের। একই প্রতীকে দুই তৃণমূলের প্রচার আদৌ সম্ভব কিনা, সেটিই উপনির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

এর ফলে দুই তৃণমূলের লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। উপনির্বাচনে দুই শিবিরের লড়াই কতটা তীব্র হবে এবং তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক কোন দিকে কতটা ভাগ হবে, তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই তৃণমূলের মধ্যেই মূল দড়ি টানাটানি হতে পারে।