অভিষেকের নামে আবার এফআইআর, এবার সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে রিসর্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ

Image: IANS

সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর রুজু করা হয়েছে। পৈলানের একটি রিসর্টে স্বাস্থ্যশিবির আয়োজনের সময় জোরপূর্বক পরিষেবা নেওয়া এবং আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন রিসর্টের প্রতিনিধি সমীরণ রায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেবাশ্রয় শিবিরের জন্য প্রায় ৪০ দিন রিসর্টের সমস্ত কক্ষ আটকে রাখা হয়েছিল। ওই সময়ে প্রায় ১১০ থেকে ১২০ জন চিকিৎসক ও কর্মীদের থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করে রিসর্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এই সমস্ত খরচ তাদেরই বহন করতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই পর্যটনের মরসুমে রিসর্টটি ভাড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিধীয়ক দিলীপ মণ্ডলের নামেও এফআইআর রুজু করা হয়েছে। রিসর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, শিবির পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছিল এবং টাকা না দিলে ভাঙচুর ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে সেবাশ্রয় এবং সেবাশ্রয় ২ কর্মসূচির কারণে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়।


রিসর্টের তরফে অভিযোগ দায়ের করেছেন সমীরণ রায়। তাঁর দাবি, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন অভিযোগ জানাতে ভয় পেয়েছিলেন। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদল হওয়ায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তোলাবাজি এবং দুর্নীতিদমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বিধানসভায় সরব হন বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা। শনিবার বিধানসভায় অভিষেকের সেবাশ্রয় নিয়ে তোপ দাগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এসব মামলা করা হচ্ছে। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলেও, আদালত জানিয়েছে, সব ধরনের মামলার ক্ষেত্রে কোনও সার্বিক রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়।