নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ভেঙে দেওয়ার আবেদনে আপাতত কোনও সিদ্ধান্ত নিল না কলকাতা হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানির উপর সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় এই পরিস্থিতিতে সিট ভাঙার আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাল আদালত। সিবিআই চাইলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
মঙ্গলবার শুনানিতে বিচারপতি সিনহা সিবিআইয়ের উদ্দেশে জানতে চান, ‘তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে? তদন্তে কী উঠে এসেছে? এই মামলার ভবিষ্যৎ কী?’ আদালতের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানির উপর যখন সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে, তখন এই অবস্থায় হাইকোর্ট কীভাবে সিট ভাঙার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে?
এসএসসি এবং প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের জন্য হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই সিটই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চালিয়ে যায়। এবার সেই সিট ভেঙে দেওয়ার আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সিবিআইয়ের হয়ে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, গত পাঁচ বছর ধরে সিট কাজ করছে। এই সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকজন অফিসার অবসর নিয়েছেন, আবার কারও পদোন্নতি হয়েছে। তাঁরা সিটে বহাল থাকায় প্রশাসনিক কিছু বিষয় আটকে রয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।
অন্যদিকে, মূল মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ফিরদৌস শামিম সিট ভাঙার আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সিট ভেঙে দেওয়া হলে তদন্তের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
তাঁদের প্রশ্ন, তদন্ত সম্পূর্ণ না হলে সিট ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজন কেন? শেষ পর্যন্ত সিবিআইয়ের আবেদনটি শুনানি করার সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত। মামলাটি আপাতত শুনানির তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সিবিআইকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সুযোগের কথা জানিয়েছে হাইকোর্ট।
ফলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল আপাতত বহালই থাকছে। সিট ভাঙার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে কী আবেদন করে এবং সেখানে কী সিদ্ধান্ত হয় তার উপর।