বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন আন্তর্জাতিক হিন্দু পরিষদের (AHP) প্রধান তথা প্রাক্তন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা প্রবীন তোগাড়িয়া। তাঁর দাবি, এর ফলস্বরূপ পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। দু’দিনের সফরে কলকাতায় এসে শনিবার তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। প্রবীন তোগাড়িয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারকে দিয়ে হিন্দুদের উপর অত্যাচার করানো বন্ধ করতে হবে। না হলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যে চাল, ডাল, নুন, তেল-সহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য যাচ্ছে, সব বন্ধ করে দিতে হবে। অত্যাচার বন্ধ কর, না হলে ভুখা পেটে মরো।’
এক সময়ের বিশিষ্ট সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট তোগাড়িয়া এ দিন কলকাতায় AHP-র কর্তাদের নিয়ে দু’দিনের একটি সম্মেলনে যোগ দেন। সফরের ফাঁকে ডানলপের মহামিলন মঠের প্রধান শ্রী কিঙ্কর বিঠঠল রামানুজ মহারাজ, দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সংঘ আদ্যাপীঠের সাধারণ সম্পাদক ও ট্রাস্টি ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই, শ্রী পরমহংস সন্ন্যাসী নির্বাণী আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী রাজরাজেশ্বরানন্দ পুরী এবং ওমকারনাথ মিশনের সভাপতি কিঙ্কর প্রিয়নাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন তোগাড়িয়া। তাঁর দাবি, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকার বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। তিনি বলেন, ‘হিন্দুরা বিশ্বাস করে বিজেপিকে প্রচুর ভোট দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এসেছে। এই সরকার বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং অনুপ্রবেশ আটকাবে। পাশাপাশি রাজ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হবে। কৃষকেরা যাতে ফসলের ন্যায্য দাম পান, সরকার তা দেখবে।’
তোগাড়িয়ার দাবি, হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খাদ্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর কথায়, ‘হিন্দু রাষ্ট্রের সরকার বলতে এমন একটি সরকারকে বোঝায়, যেখানে সব শিশুর জন্য খাদ্য, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত থাকবে।’ হিন্দু সমাজের স্বার্থে রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির কথাও এ দিন স্পষ্ট করেন তোগাড়িয়া। তিনি বলেন, ‘ভারতে হিন্দু রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা আমি সবসময় করেছি। মানুষের রায়কে একত্রিত করে হিন্দুদের কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য সরকারকে প্রভাবিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমরা সেই কাজ চালিয়ে যাব।’
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক ধর্ম সংসদ আয়োজনের কথা জানিয়েছেন ওমকারনাথ মিশনের সভাপতি প্রিয়নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তোগাড়িয়ার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তোগাড়ীয়ার দাবি, ১৯৪৭ সালের পর থেকেই বাংলা উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। তবে কুশাসনের কিছু প্রভাব এই রাজ্যে পড়েছে বাম এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রশাসকদের আমলে। আগামী দিনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে পশ্চিমবঙ্গ। এ ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে ২০১৫ সালে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার তোগাড়িয়ার রাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি রাজ্যে প্রবেশ করলে তাঁকে গ্রেপ্তারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল সরকারের পতনের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে এলেন তোগাড়িয়া।