প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এখন জেলে। কিন্তু শুক্রবার কসবার বাড়িতে বিশাল পুলিশ বাহিনী হাজির হল। দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতি কাণ্ডে ইন্দ্রনীল জেলে থাকলেও ইতিমধ্যেই তাঁর স্ত্রী এবং মেয়েকেও তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল লালবাজার। তারপরই এবার শুক্রবার ইন্দ্রনীলের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে এল পুলিশ। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি মামলার তদন্তে একের পর এক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। দুর্নীতি কাণ্ডে ইন্দ্রনীল সেনের ডানহাত ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি বসু বলে মনে করা হচ্ছে। লালবাজার সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের নজরে এসেছে একটি সংস্থা। যার নাম থার্ড লাইন এ ক্রিয়েশন। এই সংস্থা থেকেই ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর মেয়ের সঙ্গে যুক্ত দুটি সংস্থায় মোট ১ কোটি ৫০ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল। এই সংস্থার মালিক হচ্ছেন ধ্রুবজ্যোতি বসু।
এদিকে গত ৪ নভেম্বর দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে পুলিশের সঙ্গে এসেছে কুকুরও। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির পরিকল্পনা থেকে শুরু করে দুর্নীতির টাকা আড়াল করা সবক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে পুলিশের দাবি। ধ্রুবজ্যোতি বসুকে গ্রেপ্তারের পর থেকে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে এসেছে পুলিশের। লালবাজার সূত্রে খবর, কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশেই অলাভজনক সংস্থা হিসেবে নথিভুক্ত মাস আর্ট সোসাইটিতে ৬৬ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল ধ্রুবজ্যোতির সংস্থা। সবটাই আসলে ইন্দ্রনীলের টাকা।
অন্যদিকে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরেই তৈরি হয়েছিল মাস আর্ট সোসাইটি। এই সংস্থাকে সামনে রেখেই ভিআইপি পাস এবং প্রিভিউ শো-এর টিকিট বিক্রির ছক কষা হয়েছিল। এই সংস্থার অন্যতম মাথা ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের টেন্ডারে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছিল ধ্রুবজ্যোতির সংস্থা। বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম এবং লোগো ব্যবহার করে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোটা টাকায় পাস ও টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল।
তাছাড়া ধ্রুবজ্যোতি বসু আরও দুটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার ডিরেক্টর পদে আছেন। ওই সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক লেনদেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং অন্যান্য আর্থিক নথিও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তবে তদন্তকারীদের দাবি, এই দুর্নীতিতে মোট ১১৫ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ করা হয়েছে। শুধু দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করেই ৩০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল।