শহরের অপরাধের ‘হটস্পট’গুলি চিহ্নিত করতে হবে, বড় নির্দেশ দিলেন পুলিশ কমিশনার

Lalbazar Photo-SNS

কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আনসারির সেলে আইফোন, মোবাইল থেকে শুরু করে পৌঁছে গিয়েছিল অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম। প্রেসিডেন্সি জেলের এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। এই ঘটনার পরই কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা প্রত্যেক থানার ওসি এবং গোয়েন্দা দপ্তরের ওসিদের বড় নির্দেশ দিলেন। কলকাতা শহরের নানা জায়গায় অপরাধ হয়ে থাকে। এমনকী অপরাধের ইতিহাস আছে। এইসব জায়গাগুলিকে এককথায় বলা হয়, অপরাধের হটস্পট। কিন্তু সেই অপরাধের হটস্পট শহরে কতগুলি আছে? এবার সেগুলিকে চিহ্নিত করে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা বলে সূত্রের খবর।

শহরের অপরাধের ‘হটস্পট’গুলি চিহ্নিত করতে বলার পিছনে যথেষ্ট কারণও আছে। এই কুখ্যাত অপরাধী আফতাব আনসারি এখানে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কোন অপরাধের হটস্পট তাকে সাহায্য করেছিল থেকে শুরু করে নানা অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য জানতেই এমন উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। সামনে দুর্গাপুজো। তার আগে এইসব সম্পর্কে জেনে নিতে চান পুলিশ কমিশনার। আর তাই প্রত্যেক থানা ও গোয়েন্দা দপ্তরের ওসিদের অপরাধের হটস্পট চিহ্নিত করার নির্দেশ দিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। কোন কোন এলাকায় কী কী ধরনের অপরাধ বেশি হচ্ছে সেটার তালিকাও প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শহরে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুনের মতো অপরাধগুলি কোন এলাকায় বেশি হচ্ছে সেটাও দ্রুত চিহ্নিত করতে বলেছেন নগরপাল। ইতিমধ্যেই প্রত্যেক থানা ও গোয়েন্দা দপ্তরের ওসি, লালবাজারের পুলিশকর্তাদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন পুলিশ কমিশনার। সেখানেই নগরপাল নির্দেশ দেন, এক একটি অপরাধের ক্ষেত্রে পাঁচটি করে এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। অপরাধ কেমন করে কমানো যায় সেটার জন্য তৈরি করতে হবে রূপরেখা। অপরাধের হটস্পট চিহ্নিত হওয়ার পর ওই জায়গাগুলিতে থানা এবং গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি চালাতে হবে। সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে যে কোনও অপরাধ নিয়ে তৈরি করতে হবে ডেটা ব‌্যাঙ্কও। আর মাদক পাচার রুখতে নানা এলাকায় লাগাতার সচেতনতার প্রচার চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন অজয় নন্দা বলে সূত্রের খবর।


তাছাড়া এই বৈঠকে জুলাই মাসে হওয়া খুন, সাইবার জালিয়াতি, প্রতারণা-সহ নানা অপরাধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারপরই পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ, প্রত্যেক মামলার ফলো আপ করতে হবে অফিসারদের। শুধু গ্রেপ্তার করলেই চলবে না। প্রত্যেকটি অপরাধে অভিযুক্তদের সাজারও ব‌্যবস্থা করতে হবে। পকসো মামলায় ৬০ দিনের মধ্যেই যেন চার্জশিট পেশ করা হয়। আর আগামী কদিনের মধ্যে ভার্চুয়ালি থানার ওসি এবং লালবাজারের কর্তাদের নিয়ে আবার বৈঠক করবেন পুলিশ কমিশনার বলে সূত্রের খবর।