দেবীপক্ষের সূচনায় ইডেন গার্ডেন্সে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। কিন্তু এবার সেখানে বড় বদলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতির কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নাও থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর। তাঁর বদলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থাকতে পারেন। যদিও এখনও চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা হয়নি। এখানে প্রধানমন্ত্রী এসে চক্ষুদান থেকে শুরু করে নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে ঠিক ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা নাও হতে পারে। মহালয়ায় হয়তো ইডেনে দেখা যাবে না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া। সেদিন ইডেনের মাঠে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক সূচিতে ছিল, প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে চক্ষুদানের মাধ্যমে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। তার আগে রেড রোডে রোড শো হবে। বাংলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরতে ২৩টি জেলার ২৩ ধরনের নৃত্যকলা পরিবেশন হওয়ার কথা আছে। কিন্তু কেন সূচি বদল হল? উঠছে প্রশ্ন। তবে প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে ইডেনে এক হাজার মহিলার উলুধ্বনি করার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে বেজে উঠবে ১০ হাজার ঢাক। স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় শ্রেয়া ঘোষাল গাইবেন দুর্গাপুজোর গান বলেই ঠিক আছে এখনও পর্যন্ত। সেখানে বাকি সব হতেই পারে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নাও থাকতে পারেন।
অন্যদিকে এমন পরিকল্পনা যখন চূড়ান্ত তখন গতকাল রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিএবি কর্তাদের একটি বৈঠক হয়। সেখানেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মহালয়ার অনুষ্ঠানে না আসার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বরং সেখানে অমিত শাহ আসতে পারেন বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার স্বার্থে ইডেন গার্ডেন্স এসপিজির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেন্স গার্ডেন্স তাদের আওতায় থাকার কথা। কিন্তু মোদীজি না আসায় সেইসব পরিকল্পনাও বদল করতে হবে বলে সংস্কৃতি দপ্তর সূত্রে খবর।
তাছাড়া ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে বাংলার রঞ্জি ম্যাচ। প্রথম ম্যাচ দিল্লির বিরুদ্ধে। সুতরাং ইডেনে ম্যাচ আয়োজন নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে রঞ্জি ম্যাচ ইডেনের বদলে কল্যাণীতে হতে পারে। দুর্গাপুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসবেন, সেটা তো গর্বের ব্যাপার। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, নাও আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।