মোদীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে বিশেষ উদযাপন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন-সহ একাধিক কর্মসূচি

PM Modi Photo-SNS

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন। ৭৫ পেরিয়ে ৭৬ বছরে পা রাখবেন তিনি। প্রতি বছর এই দিনটিকে ঘিরে বিজেপির তরফে নানা কর্মসূচি থাকে। এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় মোদীর জন্মদিনকে আরও বড় পরিসরে উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তার মধ্যে এবছর প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২৫ বছরের প্রশাসনিক কর্মজীবনের যাত্রাকেও আলাদাভাবে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে এ বিষয়ে প্রস্তুতি বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যজুড়ে একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা করেন। কর্মসূচির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ আশীর্বাদের প্রদীপ। ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি মোদীর জন্মদিনে অন্নপূর্ণা দিবস পালনের পাশাপাশি কলকাতায় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদের নিয়েও বড় কর্মসূচি রয়েছে। সেই অনুযায়ী স্কুলশিক্ষা দপ্তর রাজ্যের সব জেলা স্কুল পরিদর্শকের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর উপলক্ষে সূর্যাস্তের পর কলকাতায় গঙ্গার তীরে হবে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের অনুষ্ঠান। এরপর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মোদীর জন্মদিন উদযাপন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, দিনটিতে বিভিন্ন সরকারি ও ঐত্যিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান যেমন-রাইটার্স, ভিক্টোরিয়া, নবান্ন ও কালীঘাট মন্দির-সহ একাধিক জায়গায় প্রদীপ দিয়ে সাজানো হবে।

এছাড়া উচ্চশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে হবে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’। ৮০ হাজার স্কুলপড়ুয়া অংশগ্রহণ করবে বিকশিত ভারত প্রতিযোগিতায়। ২০৪৭ সালের ভারত কেমন হবে, তা নিয়ে অঙ্কন, প্রবন্ধ, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের একটি করে প্রদীপ দেওয়া হবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজেদের বাড়িতে সেই প্রদীপ জ্বালাবেন তাঁরা। এই কর্মসূচিতে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকদেরও যুক্ত করার নির্দেশ রয়েছে। বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী অভিভাবকদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। জেলা স্কুল প্রশাসনকে বিধানসভা অনুযায়ী স্কুল ও পড়ুয়াদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রদীপগুলি কবে, কোথায় এবং কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও স্কুলশিক্ষা দপ্তর স্পষ্ট নির্দেশ দেয়নি বলে দাবি এক জেলা স্কুল পরিদর্শকের।


প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর জন্য সমষ্টিগত সংকল্পের প্রতীক হিসেবেই এই কর্মসূচি। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২৯৪টি বিধানসভায় মোট ৭০ লক্ষের বেশি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হবে। তবে অনুষ্ঠান কীভাবে হবে, তা নির্ধারণে বিধায়কদের সহযোগিতা করবেন জেলাশাসকেরা।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ৭ অক্টোবর মোদীর দেশসেবার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারিভাবে সেবাযাত্রা হবে। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি দেশের সব জেলার উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। এর পাশাপাশি সাফাই কর্মসূচি, স্বচ্ছতা অভিযান, রক্তদান শিবির-সহ একাধিক উদ্যোগ থাকবে।

এছাড়া বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রার কর্মসূচি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২৫ জন উত্তরপ্রদেশে ও সেখান থেকে ২৫ জন এ রাজ্যে এসে বিভিন্ন কর্মসূচির কনটেন্ট তৈরি করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করবেন। এছাড়া ক্রীড়া দপ্তরের সেবা জ্যোতি যাত্রা, সেবা সেতু অভিযান, আল্পনা বা রঙ্গোলি প্রতিযোগিতা হবে। এই রঙ্গোলি যাত্রায় রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি হবে ১০৮মিটার দীর্ঘ ভারত মণ্ডল। এর পাশাপাশি খড়্গপুর আইআইটি, আইআইএম কলকাতা বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ-এর পরিকল্পনা রয়েছে। জনসেবা মহাকুম্ভ-সহ মোট ১৩ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে উপনির্বাচনের কারণে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরকে এই সরকারি আয়োজনের বাইরে রাখা হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেখানে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকায় সরকারের তরফে কোনও অনুষ্ঠান হবে না।

আবার এই পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি তুলেছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রদীপ জ্বালিয়ে আশীর্বাদ করতে বলা হচ্ছে কেন? তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পড়ুয়া ও অভিভাবকদের গিনিপিগ বানানো হচ্ছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদেরও প্রায় জোর করে অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হচ্ছে। এটা উপভোক্তাদের অপমান বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।