টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় টেকনিশিয়ানদের গিল্ডের নির্বাচন ঘিরে সরগরম পরিস্থিতি। রবিবারের নির্বাচনেও উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন তিনি। তবে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, বরং প্রকৃত বঞ্চিতদের পাশে থাকার বার্তাই দিলেন মিঠুন।
মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “আমরা রাজনৈতিক দল হব না। আমাদের কোনও রাজনৈতিক মত থাকবে না। তাই এখানে বাইরে বসে আছি। যাঁরা সত্যিকারের প্রাপ্য অধিকার পাননি, তাঁদের জন্য আমি থাকব। মিথ্যের সঙ্গে আমি নেই।”
স্টুডিওপাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রিতে একটা শান্তি বজায় রয়েছে। আর সেটাই তিনি চেয়েছিলেন।
অন্যদিকে, গিল্ড ও ফেডারেশনকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মিঠুন। তিনি জানান, ফেডারেশন থাকতেই হবে। ফেডারেশনের উপরে কনফেডারেশন গঠনের বিষয়টিও রয়েছে। আগে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই মিটে গিয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন অভিনেতা ও বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, মোট ২৩টি গিল্ড রয়েছে। তার মধ্যে ৭টি গিল্ডে ইতিমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ৫টি গিল্ডে গতকাল ভোট হয়েছে এবং আজ আরও ১১টি গিল্ডে ভোটগ্রহণ চলছে।
রুদ্রনীল জানান, প্রায় ৫ হাজার টেকনিশিয়ানকে প্রার্থী হওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গিল্ডে ৯-১০টি পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যাঁদের সঙ্গে প্রার্থীদের পরিচিতি ও কাজের সম্পর্ক রয়েছে, সেই সহকর্মীরাই তাঁদের ভোট দিচ্ছেন। দীর্ঘ বছর পর টেকনিশিয়ানরা তাঁদের বন্ধু, ভাই ও সহকর্মীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আর এই গোটা প্রক্রিয়াই ইন্ডাস্ট্রির ভালোর জন্য বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য কড়া ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান রুদ্রনীল। তাঁর কথায়, নির্বাচনের ভিতরে বা বাইরে থেকে কোনও বহিরাগতকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজরদারির জন্য রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। সকলেই খুশি মনে ভোট দিচ্ছেন।
নির্বাচনের পরবর্তী কাঠামো নিয়েও ব্যাখ্যা দেন রুদ্রনীল। তিনি জানান, প্রতিটি গিল্ড থেকে পাঁচজন করে প্রতিনিধি নিয়ে একটি বডি তৈরি হবে। সেই বডিই ঠিক করবে ফেডারেশনে কারা কোন পদে বসবেন এবং কে কী দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোট নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে রুদ্রনীল বলেন, এখানে কোনও ‘বেনোজল’ নেই। সাধারণ নির্বাচন এবং ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেই বিষয়টি বুঝতে হবে। তাঁর বক্তব্য, ২৩টি গিল্ডে মোট ৩৩৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই নির্বাচনে বাইরের কারও হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। পুরো প্রক্রিয়া লেবার কমিশনের নজরদারিতে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলি গিল্ডের বোর্ডেও টাঙানো হয়েছে। যাঁরা সেই বোর্ডের তথ্য দেখতে পারেননি, তাঁরা হয়তো বিষয়গুলি জানতে পারেননি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো খবর নিয়েও সরব হন রুদ্রনীল। তাঁর অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার প্রভাবেও অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, লেবার কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে নির্বাচন পরিচালিত হলে কোনও সমস্যা বা ফারাক থাকার কথা নয়। ইতিমধ্যেই সাতটি গিল্ডে জয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ফলাফলও দ্রুত সামনে আসবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীও নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের মতামত জানান। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন ঠিকঠাকভাবেই হচ্ছে। তবে অনেকেই এখনও বাইরে রয়েছেন। তাই সকলকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। যদিও একইসঙ্গে নির্বাচনে ‘বেনোজল’ রয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন পাপিয়া।
সব মিলিয়ে টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ানদের গিল্ডের নির্বাচন ঘিরে একদিকে যেমন শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তী, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন রুদ্রনীল ঘোষ ও পাপিয়া অধিকারী।