‘এনকাউন্টার অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমজনতাকে শান্তি দিয়েছে’, বারুইপুর নিয়ে সওয়াল দিলীপের

Dilip Ghosh Photo-SNS

বারুইপুরে এনকাউন্টার নিয়ে নানা মহলে নানা মতামত দেওয়া শুরু হয়েছে। যেখানে একজন ধর্ষণে অভিযুক্ত পুলিশের বন্দুক নিয়ে পালাতে চেষ্টা করেছিল। এমনকী পুলিশের উপর গুলি পর্যন্ত চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে আত্মরক্ষার্থে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়েছিল। তাতে মৃত্যু হয়েছে প্রভাস মণ্ডলের। কিন্তু বারুইপুর গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এবার সব বিষয়টি নিয়েই মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

এদিকে ‘সকালে জমা বিকেলে খরচ’ নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে এমনই কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর বারুইপুরের ঘটনায় সেই কাজই করে দেখালেন। তাতে মৃত নাবালিকার পরিবার অত্যন্ত খুশি এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেছে। আর যে অপরাধ করেছিল তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে বিরোধীতা করেনি। বরং সমর্থনই করেছে। তবে নানা যুক্তি খাড়া করে এনকাউন্টারের বিরুদ্ধেও মুখ খুলেছেন অনেকে। বিশেষ করে সুর চড়িয়েছেন সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য-সহ অনেকে। বৃহস্পতিবার তাঁদেরই উদ্দেশে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এরা সমাজবিরোধী। এই যে অপরাধ বেড়েছে সমাজে তার পিছনে কমিউনিস্টরা বুদ্ধিজীবীরা চিরদিন দাঁড়িয়েছে। এরা নিজের ইমেজ আর নাম ছাড়া কিছু চায় না। যখন অপরাধ হয়েছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন, অপরাধী সাজা পেলে তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছে।’

অন্যদিকে বারুইপুর থানার পুলিশের গুলিতে খতম হয়েছে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। তারপর থেকেই থমথমে সূর্যপুর। সেখানে এদিন এনকাউন্টার নিয়ে চলছে লোকজনের মুখে আলোচনা। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বারুইপুর থানার পুলিশের গাড়ি টহল দিচ্ছে রাস্তায়। এই আবহে সেখানে অনেকটা শান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন সকালে জমা, বিকেলে খরচ। এনকাউন্টার হয়েছে বাংলায় প্রথমবার। নকশাল আমলে, অতীতে হতো। আমরা এনকাউন্টার করতে চাই না। কিন্তু বিহার, উত্তরপ্রদেশে এনকাউন্টার অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমজনতাকে শান্তি দিয়েছে। তখন এখানে তৃণমূল সরকার ছিল। যারা অন্য রাজ্যের এনকাউন্টারের বিরোধিতা চালিয়ে গিয়েছিল। তারা দুষ্কৃতীদের মাথায় তুলে রেখেছিল। তাই আজ বাংলার এই অবস্থা।’


তাছাড়া এনকাউন্টারে প্রভাসের মৃত্যুর খবরে খুশি সূর্যপুর। অনেকেই বলছেন, যেভাবে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুন করা হয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য। অভিযুক্ত মরেছে এলাকায় ভয় কমেছে। অন্যদেরও মারা হোক এভাবেই। যদিও দিলীপ ঘোষের সওয়াল, ‘বাংলার পুলিশ চাইলে সব পারে। আমরা সেটাই ভুলতে বসেছিলাম। পুলিশ হিম্মত করেছে। মানুষের আশা আকাঙ্খাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অপরাধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছি। অপরাধী ধরা এবং পালানোর চেষ্টা করলে নিকেশ করতে দ্বিধা করেনি পুলিশ। অপরাধ দমনে পুলিশের হাত আর কাঁপবে না। সরকার আর পিছিয়ে যাবে না এটা প্রমাণ হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে স্পটে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে হয়। বিরোধীরা ওখানে ফটো তুলতে গিয়েছিল। এনকাউন্টার ঘিরে মায়ের থেকে মাসির দরদ বেশি। এরা বুদ্ধিজীবীর নামে সমাজবিরোধী। ডিম বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ভাঙুন। এদের বুঝিয়ে দিন। অপরাধী এবং অপরাধের পাশে দাঁড়ানো এইসব মানুষকে সমান ট্রিটমেন্ট দিন। গতকাল মাননীয়া একজনকে থাপ্পড় মারলেন। ওনার তার কেটে গিয়েছে। এতদিন কয়েকটা তার কাটা ছিল। কাল দেখলাম সব তার কেটে গিয়েছে। সিপিএমকে লোকে ত্যাগ করেছিল বলে ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো তৃণমূল এসেছিল। আজ মানুষ প্রকৃত বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে পেয়েছে।’