আগে দু’দফা বৈঠক হয়ে গিয়েছে। আন্দোলনকারীদের একাধিক দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সব আলোচনা থমকে গিয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি সামনে আসতেই। এবার আবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উপরে চাপ বাড়ালেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের সাফ কথা, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা বা তাঁকে অপসারণ করা ছাড়া কোনও বৈঠকে অর্থহীন। এমন পরিস্থিতিতে কলকাতা শহরে একদিন আগেই ককরোচ জনতা পার্টির মিছিল হয়। তাতে সামিল হয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলিও। তাতে চরম অশান্তি হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় বোতল, জুতো। এমনকী মারমুখী হয়ে ওঠেন তাঁরা। এবার এই মিছিলকে নিয়ে কড়া কথা বললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
এদিকে নয়াদিল্লির যন্তরমন্তর থেকে শুরু করে কলকাতার রাজপথ সরগরম হয়ে উঠেছে ককরোচদের আন্দোলনে। গোটা দেশের নানা প্রান্তে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন চলছে। কলকাতার মিছিলে পুলিশ থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ নেমে এসেছে। যা নিয়ে শনিবার বিধানসভায় কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ সুর চড়িয়ে বলেন, ‘আন্দোলনের নেপথ্যে দেশবিরোধী শক্তি, উগ্র বামপন্থী এবং তথাকথিত আরবান নকশালদের ভূমিকা থাকতে পারে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাংশের স্লোগান এবং বক্তব্য অতীতের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে মিল রয়েছে।’
অন্যদিকে ককরোচদের এই মিছিল-আন্দোলন এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি এখন উত্তাল। জাতীয় রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে কলকাতার ঘটনা হিংসার সাক্ষ্য বহন করছে। তাই দিলীপ ঘোষের তোপ, ‘একটা চেইন আছে ভারতকে ভাগ করার, ভারতের বিরোধিতা করার এই স্লোগান বারবার চলে আসে। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে উগ্রপন্থীদের টাইট করেছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের টাইট করেছেন তারা এখন শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে। এরকম কোনও না কোনও ইস্যুকে সামনে রেখে মাঝে মাঝে উৎপাত করে। যারা সংবাদমাধ্যম, সাধারণ মানুষ এবং পুলিশকে আক্রমণ করেছে, তাদের কোনও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিকভাবে কোনও লাভ হবে না। বরং মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হবেন।’
তাছাড়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গও টেনে এনেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। আন্দোলনের সঙ্গে অতি বামপন্থী বা তথাকথিত আরবান নকশালদের যোগ রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি। দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘যাদবপুর নামে একটা আলাদা আইল্যান্ড আছে। যেখানে ভারত বিরোধী স্লোগান ওঠে। ভারতকে টুকরে হোঙ্গে, আজাদি, ইনশাআল্লাহ এই সব স্লোগান আমরা দেখেছি। কিন্তু তাদের অস্তিত্বটা কোথায়! রাজনীতিতে কোথাও নেই। বামপন্থী, অতি বামপন্থী কিছু কিছু মানুষ থাকে। কারও বোরে হয়ে তারা কাজ করে। এখানেও তাই হয়েছে। গণতন্ত্রের পরিবেশ আছে তাই লাফালাফি করছে। ধীরে ধীরে এক্সপোজ হয়, হবে। এদের অ্যাক্টিভিটি মিলে যাচ্ছে। এদের স্লোগান মিলে যাচ্ছে। এদের কাজ করার ঢং ঘুরেফিরে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আক্রমণ।’