হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে পুলিশি আটক? আদালতের দ্বারস্থ কংগ্রেস সাংসদ ইশা

File Photo

মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কয়েকজন জেলা পরিষদ সদস্যকে বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ। তার জেরে তাঁরা নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে দাবি মামলাকারীর। এই অভিযোগ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে প্রতিনিধিত্ব করেও কোনও সুরাহা হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিচার চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন মালদহ জেলা পরিষদের এক সদস্য।

মামলাকারীর কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর অভিযোগ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনের আগে সদস্যদের নিরাপদে সভাস্থলে পৌঁছনো এবং স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। বরং কয়েকজন সদস্যকে পুলিশ আটকে রাখায় তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী।

মামলার বয়ান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জুন মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতিকে অপসারণের জন্য অনাস্থা বৈঠকের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বৈঠকের দিন ধার্য হয়েছিল ২৫ জুন। পরে সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হলে ৩০ জুলাই বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে শুনানি হয়। সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতিকে অপসারণের বৈঠকের দিন পুনর্নির্ধারণের আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়ে মামলাগুলির নিষ্পত্তি করে।


এরপর ১৪ আগস্ট তৎকালীন সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরবর্তী সময়ে ২২ সেপ্টেম্বরের মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ যাতে নির্বিঘ্নে বৈঠক করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। সেই সঙ্গে জেলা পরিষদের সদস্যরা যাতে নিরাপদে সভাস্থলে পৌঁছে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারেন সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।

কিন্তু মামলাকারীর দাবি, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কয়েক জন সদস্যকে আটকে রাখা হয়। ফলে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। এই ঘটনায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও সেই প্রতিনিধিত্ব এখনও বিবেচনা করা হয়নি বলে দাবি।