তৃণমূল আমলের সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল, রায় কলকাতা হাইকোর্টের

Calcutta High Court Photo-SNS

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় ইস্যু করা ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি শংসাপত্র বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন। এখন রাজ্যে দু’টি ক্যাটাগরি আর থাকল না। শুধুমাত্র একটি ওবিসি ক্যাটাগরি থাকল। এদিন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি বিভাজন এখন আর নেই। তাই এই ধরনের শংসাপত্রগুলির আর কোনও বৈধতা নেই। যাঁদের এই শংসাপত্র রয়েছে, তাঁরা এখন থেকে ‘সাধারণ শ্রেণি’ হিসেবেই বিবেচিত হবেন। একইসঙ্গে ২০১০ সাল থেকে জারি করা সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

২০১০ সালে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। তখন তারা এই সংক্রান্ত শংসাপত্র দিয়েছিল। সেগুলিও বাতিল হলো। আর ২০১১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ছিল। তারাও যেসব ওবিসি শংসাপত্র ইস্যু করেছিল তাও বাতিল হয়ে গেল। রাজ্যের ওবিসি সম্প্রদায়কে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছিল— ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীনই অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) শংসাপত্র নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ওই সমস্ত শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালে এই নিয়ে হওয়া মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট ৬৬টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দেয়। তাদের ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়। নতুন করে সমীক্ষার মাধ্যমে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় তৎকালীন রাজ্য সরকার। তবে সর্বোচ্চ আদালতও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে।

কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট হয়ে সেই মামলা আবার আসে কলকাতা হাইকোর্টের কাছেই। বুধবার শুনানিতেই ২০১০ থেকে ইস্যু হওয়া ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করল উচ্চ ন্যায়ালয়। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি ক্যাটাগরি তুলে দেয়। তারা ওবিসি-তে একটিই ক্যাটাগরি রাখে। এবার মমতা সরকারের জারি করা সব ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি সার্টিফিকেট বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যে নয়া বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য একটিই সংরক্ষণ রাখা হবে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্যের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা করা হয়েছিল সেটা তুলে নেয় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তার ফলে তৃণমূল আমলের নতুন নিয়মে জারি করা ওবিসি শংসাপত্রগুলি বৈধতা হারিয়েছে। আর এই কারণেই বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা সেটা বাতিল করে দিলেন।


তাছাড়া তৃণমূল জমানায় ওবিসি সংরক্ষণ ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ করা হয়েছিল। সেটা নিয়ে মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। নতুন বিজেপি সরকার ওবিসি তালিকা আবার ৭ শতাংশে ফিরিয়ে এনেছে। ৭৪টি সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে নতুন ওবিসি তালিকা প্রকাশ করেছে। আপাতত ৬৬টি জনজাতি এই সংরক্ষণের আওতায় রয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর যখন কলকাতা হাইকোর্টে মামলা ফিরে এসেছিল সেই সময়কালেও যাঁরা নতুন করে ওবিসি শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন এবং সেই শংসাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁরা এটার ফলে সমস্যায় পড়লেন। কারণ এই শংসাপত্র সংরক্ষণের জন্য আর বিবেচিত হবে না।