ওবিসি রায়ের ধাক্কা চাকরিতে! নবম-দশম থেকে একাদশ-দ্বাদশ—হাজারো প্রার্থীর ভবিষ্যৎ এখন হাইকোর্টের হাতে

File Photo

কলকাতা হাই কোর্টের ওবিসি সংক্রান্ত রায়ের অভিঘাত এবার সরাসরি গিয়ে পড়তে পারে রাজ্যের চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ থেকে শুরু করে নতুন চাকরিপ্রার্থী, পুরনো চাকরিহারা এবং ইতিমধ্যে নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় থাকা বহু প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। একদিকে ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে আদালতের নির্দেশ, অন্যদিকে ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগবিধি—সব মিলিয়ে একাধিক মামলার জট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি অনুজ সিংহের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের ফলে নতুন নিয়মে তৈরি ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যাঁরা আদালতের আগের নির্দেশের পরে নতুন করে শংসাপত্র নিয়ে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার আশায় ছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সাধারণ শ্রেণিতে বিবেচনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির অভিঘাত কতদূর পৌঁছতে পারে, তা নিয়েই এখন উদ্বেগ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। বাম আমলে ওবিসি তালিকায় ছিল ৬৬টি সম্প্রদায়। ২০১১ সালের পর আরও ৭৭টি সম্প্রদায় যুক্ত হওয়ায় সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪২-এ। সেই তালিকা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনের পর এবার নিয়োগের মেরিট লিস্ট নিয়েও নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরীর বক্তব্য, ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগবিধিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধির ভিত্তিতে যে নিয়োগপ্রক্রিয়া চলেছিল, পরবর্তী সময়ে তার কাঠামো বদলানো হয়েছে। ফলে পুরনো চাকরিহারা এবং নতুন পরীক্ষার্থী—দুই পক্ষই কোনও না কোনও ভাবে সমস্যার মুখে পড়ছেন।


নতুন প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও অভিযোগের শেষ নেই। অভিজ্ঞতার নম্বর না পাওয়ায় অনেকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছেন। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় ৬০-এর মধ্যে ৬০ পেয়েও কেউ কেউ প্যানেলে জায়গা পাননি বলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ওবিসি সংক্রান্ত নতুন রায়ের প্রভাব তাঁদের উপরও পড়তে পারে।

শুধু ওবিসি নয়, অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা প্রার্থীদের ইডব্লিউএস শংসাপত্রে কোন অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বঞ্চিত ইডব্লিউএস প্রার্থীদের একাংশ ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

সব মিলিয়ে ২০২৫-এর নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন একের পর এক আইনি জটে আটকে যাচ্ছে। ওবিসি তালিকা বদলালে মেরিট প্যানেলেও পরিবর্তন আসতে পারে। আগে ওবিসি হিসেবে বিবেচিত কেউ তালিকা থেকে বাদ পড়লে তাঁর জায়গায় নতুন প্রার্থীর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এমনকি তথ্য যাচাই বা ইন্টারভিউয়ে ডাক না পাওয়া প্রার্থীদের নতুন করে ডাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফলে নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের পাশাপাশি এসসি, এসটি, ওবিসি এবং ইডব্লিউএস—বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন একাধিক আদালতের নির্দেশের উপর নির্ভরশীল। দ্রুত জট না কাটলে শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের গোটা প্রক্রিয়াই আরও দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢুকে পড়তে পারে।