শুধু জমির মালিক নন, ক্ষতিপূরণ পাবেন ভাড়াটিয়ারাও! সিঙ্গুর মামলায় হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ

File Photo

সরকারি প্রকল্পে অধিগৃহীত জমির ক্ষেত্রে জমির মালিকের পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারী ভাড়াটিয়ারাও ক্ষতিপূরণ পাবেন। এমন দাবিকেই কার্যত মান্যতা দিল রেল মন্ত্রক। সিঙ্গুরের আটটি ভাড়াটিয়ার করা মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে জমা দেওয়া রিপোর্টে এই অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায়, ভবিষ্যতে ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হল বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।

রিপোর্টের ভিত্তিতে এবার মামলাকারীরা নিজেদের বক্তব্য পেশ করবেন। এর পাশাপাশি, ওই ভাড়াটিয়াদের কত টাকা ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হতে পারে তার হিসেব রাজ্য সরকারকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ওই ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। ফলে দুর্গাপুজো পর্যন্ত স্বস্তিতে থাকছেন সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলি।

বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তার আগেই রাজ্যকে ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য অঙ্কের হিসেব আদালতে জমা দিতে হবে। সোমবার মামলাকারীদের আইনজীবী অরিন্দম দাস জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের ২০১৩ সালের নতুন ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ হলে শুধু জমির মালিক নন। সেই জমিতে বসবাসকারী বা সম্পত্তির বৈধ ভাড়াটিয়ারাও ক্ষতিপূরণের অধিকারী।


আইনজীবীর দাবি, রেলের রিপোর্টে সেই আইনি ব্যাখ্যাকেই কার্যত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে মত হাইকোর্টের আইনজীবী মহলের একাংশের। উল্লেখ্য, ডানকুনি থেকে লুধিয়ানা পর্যন্ত ১৮৫৬ কিলোমিটার বিস্তৃত ফ্রেট করিডর তৈরির জন্য ভারতীয় রেল সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ করেছিল। নিয়ম মেনে জমির মালিকদের ন্যায্য মূল্য মেটানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি শর্তানুযায়ী অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা মেটানোর পরেও জমি পুরো ফাঁকা করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি সেই জমিতে বসবাসকারী পরিবারদের উচ্ছেদের নোটিস পাঠায় রেল কর্তৃপক্ষ। রেলের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ওই জমিতে বসবাসকারী আটটি ভাড়াটিয়া পরিবার কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়। সোমবার সেই সিঙ্গুর মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল।