আবার শহরে চলল শুটআউটের গটনা। মাঝরাতে প্রায় ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ উত্তর কলকাতার পাথুরিয়াঘাটা এলাকায় পরপর গুলি চলল। গুলির শব্দে অনেকের ঘুম ভেঙে যায়। এই ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় নর্থ পোর্ট থানা এলাকার একটি ঘাটে গুলিবিদ্ধ হন এক ব্যক্তি। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম সন্তোষ চৌধুরী। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই শুটআউটের ঘটনায় কুখ্যাত দুষ্কৃতী অমিত সোনকার নাম উঠে এসেছে। পারিবারিক বিবাদের জেরেই সন্তোষ চৌধুরীকে খুন করার উদ্দেশে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই নর্থ পোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে সন্তোষ চৌধুরীকে গুলি চালানোর পর কুখ্যাত দুষ্কৃতী অমিত সোনকার পলাতক। এই অমিতের আরও দুটি নাম আছে। তা হলো-কার্তিক এবং খরগোশ। গুলিতে আহত সন্তোষ চৌধুরীর ভায়রা ভাই এই অমিত সোনকার। কার্তিক ওরফে অমিত সোনকারের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। সেটাকে কেন্দ্র করেই পরিবারের অন্যদের সঙ্গে গোলমাল বাধে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই গোলমালের জেরেই সন্তোষ চৌধুরীর উপরে হামলা চালান কার্তিক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, পারিবারিক একটি ঝামেলা মেটাতে পাথুরিয়াঘাটার একটি ঘাটে হাজির হন দু’জন। সেখানে প্রথমে একে অপরের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। তারপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখনই অমিত সোনকার ওরফে কার্তিক শূন্যে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। ততক্ষণে সন্তোষ চৌধুরীকে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’ থেকে পেটে গুলি করে অমিত সোনকার। এই কাজ করেই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় সে। গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন সন্তোষ। তখনই স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে নর্থ পোর্ট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে অমিত সোনকারের বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাত ১২টার পর নর্থপোর্ট থানা এলাকার পাথুরিয়া ঘাটে এসে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় অমিত সোনকার ওরফে কার্তিক। এলাকা ফাঁকা হয়ে যেতেই সন্তোষ চৌধুরীকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়। ওই গুলি লাগে সন্তোষ চৌধুরীর পেটে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তখনই অভিযুক্ত একটি স্কুটিতে চেপে চম্পট দেয়। সন্তোষ চৌধুরীকে তড়িঘড়ি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গুলিচালনায় অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।