সময় হাতে বিশেষ নেই। দুর্গাপুজো আসতে মাঝে আর একটা মাস। তাই এখন থেকেই দুর্গাপুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে ফেলেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের একাংশ পুরুলিয়া, বাঁকুড়া-সহ ভিন রাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা ছকে ফেলেছেন। আর একটা বড় অংশের পর্যটকরা উত্তরবঙ্গের নানা স্থানে বেড়াতে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু এখানেই ঘটেছে সমস্যা। দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, সিকিম, ডুয়ার্স-সহ নানা জায়গায় দুর্গাপুজোর সময় ভিড় বাড়বে সেটা এখন থেকেই বোঝা যাচ্ছে। সেটা আরও বোঝা গেল, টিকিট বিক্রি শুরুর মাত্র চার মিনিটেই শেষ হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর ছুটিতে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার সব ট্রেনের টিকিট! শুনতে অবাক লাগলেও এমন ঘটনাই ঘটেছে। পাঁচ মিনিটের মাথায় আইআরসিটিসি অ্যাপে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার টিকিট কাটার চেষ্টা বেশ কয়েকজন করে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্দিষ্ট উইন্ডোতে ‘রিগ্রেট’ লেখা ভেসে উঠতেই পর্যটকদের বড় অংশ হতাশ হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, টিকিট না পেয়ে বাসে পৌঁছনোর পরিকল্পনা করেছেন অনেকে। আবার অনেকে অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবছেন। কারণ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বন্দে ভারত থেকে শুরু করে শতাব্দী এক্সপ্রেস-সহ উত্তরবঙ্গের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনগুলিতেও টিকিট নেই। উত্তরবঙ্গে দুর্গাপুজোর সময় যাওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই অনেকে হোটেলের রুম বুক করে ফেলেছেন। হোম স্টে বুক হয়ে গিয়েছে। পর্যটকদের একাংশ আবার শপিং পর্যন্ত করে ফেলেছেন। সেখানে টিকিট কাটতে গিয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন। ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে দুর্গাপুজোয় এবার পর্যটক উপচে পড়ার আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু টিকিট না পেয়ে যেতে না পারলে সেই আশায় জল পড়বে।
এখন টিকিট না পেয়ে বিকল্প পথ খোঁজা শুরু করেছেন পর্যটকরা। এই বিষয়ে পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, অসাধু ব্যক্তিদের কারসাজিতে টিকিটের আকাল দেখা দিয়েছে। রেল যদি ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বহু মানুষ আগাম টিকিট না পেয়ে দুর্গাপুজোর ভ্রমণে উত্তরবঙ্গ থেকে মুখ ফেরাতে পারেন। তাতে হোটেল ব্যবসায়ীদের লোকসানের মুখ দেখতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সিআইআই উত্তরবঙ্গ শাখার পর্যটন বিভাগের চেয়ারম্যান সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘বহু পর্যটকের থেকে আমিও টিকিট না পাওয়ার কথা শুনলাম। এটা আমাদের কাছে বেশ অবাক লাগছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সংগঠনগতভাবে রেলকে লিখিতভাবে জানাতে চলেছি।’
তাছাড়া এই পরিস্থিতিতে পড়ে সশরীরে রেলের অফিসে গিয়ে অনেকে খোঁজ নিচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। তাহলে দুর্গাপুজোর সময় উত্তরবঙ্গে পর্যটকরা যাবেন কেমন করে? উঠছে প্রশ্ন। এই বিষয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মার বক্তব্য, ‘দুর্গাপুজোর ভ্রমণের জন্য সবাই অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা করে আগাম টিকিট কাটার অপেক্ষায় থাকেন। কেউ নিজে, কেউ আবার এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেটে থাকেন। সুতরাং বিক্রি শুরু হওয়া মাত্র সবাই একসঙ্গে টিকিট কাটায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে যাঁরা টিকিট পাচ্ছেন না তাঁদের জন্য দুর্গাপুজো স্পেশাল চালানোর চিন্তাভাবনা চলছে। শীঘ্রই ঘোষণা হবে।’