মেটিয়াবুরুজ থানা এলাকার এক বাসিন্দার কাছ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের হয় যে, ২০২৬ সালের মে মাসের শেষের দিকে ‘টাটা ক্যাপিটাল ফাইন্যান্স’-এর কর্মী পরিচয় দিয়ে একদল প্রতারক মহিলার কাছ থেকে ২৫,৪৫০ টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত কম সুদের হারে ২,১৮,০০০ টাকার তাৎক্ষণিক ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছিল। এখানেই শেষ নয়, প্রতারিত মহিলার আস্থা অর্জনের জন্য প্রতারকরা টাটা ক্যাপিটাল ফাইন্যান্সের জাল নথিপত্র এবং একটি ভুয়ো ডিমান্ড ড্রাফট ব্যবহার করেছিল।
এদিকে এরপর থেকে প্রসেসিং ফি, বিমা খরচ, নথিপত্র সংক্রান্ত ফি এবং অন্যান্য বিবিধ খরচের অজুহাতে তারা মহিলার কাছ থেকে বারবার টাকা দাবি করতে থাকে। তাদের কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে ওই মহিলা ২০টি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে টাকা তাদের দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঋণটি আর কখনওই পাননি। তখন ওই মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এই মহিলার সঙ্গে প্রতারকদের যোগযোগ হয় ফোন কলের মাধ্যমে। ভুয়ো কলসেন্টার খুলে ওই মহিলাকে ফোন করা হয়। তারপর টোপ দেওয়া হয় সহজ কিস্তিতে ঋণ দেওয়া হবে। ওই মহিলার টাকার দরকার ছিল। তাই সেই ফাঁদে পা দেন। আর প্রতারণার শিকার হন।
অন্যদিকে ওই মহিলার পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হতেই বিষয়টি নথিভুক্ত করার পর বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়। পোর্ট ডিভিশনের সাইবার সেলের কারিগরি বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কাজের জায়গাটি শনাক্ত করা হয়। এই অভিযান পরিচালনা করার জন্য মেটিয়াবুরুজ থানা এবং পোর্ট ডিভিশনের সাইবার সেলের অফিসারদের নিয়ে একটি যৌথ দল গঠন করা হয়। তারপর নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ওই তদন্তকারী দলটি ৯ জুলাই তারিখে চিহ্নিত জায়গাগুলিতে অভিযান চালায়। সেখানে দুটি পৃথক জায়গায় তাৎক্ষণিক ঋণ প্রদানের আড়ালে একটি ভুয়ো কলসেন্টার চলছে দেখা যায়।
তাছাড়া ওই দুটি জায়গা হলো-মলঙ্গা লেন বউবাজার এবং বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট বউবাজার। এই দুই জায়গা থেকে মোট ৯ জন প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪৮টি মোবাইল ফোন, একটি স্মার্টফোন, ৬টি সিমকার্ড, দুটি ভুয়ো রবার স্ট্যাম্প এবং একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। যাতে আরও কিছু বেরিয়ে আসে।